যে আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া যাবে না

কেনো ব্যক্তির কাছে পূর্ণ এক বছর নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্তি সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ, সাড়ে ৫২ তোলার রূপা বা এর সমতুল্য সম্পদ থাকলে এবং তা বর্ধনশীল হলে যাকাত ফরজ হবে।
যাকাত আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১১০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’ (সুরা নূর, আয়াত : ৫৬)
পবিত্র কোরআনে যাকাত অনাদায়ের শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—
‘এবং যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন, যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫)
যাকাতের মোট খাত আটটি রয়েছে। খাতগুলো হলো— এক. গরিব-ফকির— যাদের নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। দুই. মিসকিন— যাদের কোনো সম্পদ নেই। তিন. ইসলামি রাষ্ট্রের সরকারকর্তৃক যাকাত, সদকা, ওশর ইত্যাদি উসুল করার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি।
চার. ইসলামের দিকে ধাবিত করার জন্য যাকাত দেওয়া। তবে এ খাতটি বর্তমানে আর প্রযোজ্য নয়। পাঁচ. নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস-দাসী। ছয়. পর্যাপ্ত পরিমাণ মাল না থাকার দরুণ ঋণ পরিশোধে অক্ষম ঋণী ব্যক্তি। সাত. যোদ্ধা, যারা যুদ্ধের অস্ত্র যোগাতে অক্ষম অথবা টাকার কারণে হজের কাজ পূর্ণ করতে অক্ষম বা ইলম হাসিল ও দ্বীনি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত গরিব মানুষ। আট. সফর অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষ।
নিজের নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ গরিব থাকলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে কিছু নিকটাত্মীয় এমন রয়েছে যাদের যাকাত দেওয়া যায় না। তারা হলেন, যাকাতদাতার সরাসরি উর্ধ্বতন যেমন-পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি উপরের দিকে যত আত্মীয় আছেন তারা। একইসঙ্গে অধস্তন যেমন-পুত্র-কন্যা, পৌত্র-পৌত্রী, দোহিত্র-দোহিত্রী, এভাবে নীচের দিকের যত আত্মীয় আছেন তাদের যাকাত দেওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দিতে পারবে না।
এ ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন যেমন, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু, ফুফা-ফুফু ইত্যাদি তারা যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত। দরিদ্র হলে তাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে।
(সুনানে বায়হাকী ৭/২৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৭)