বিজ্ঞাপন

শাবান মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনে রোজা রাখতে হবে?

শাবান মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনে রোজা রাখতে হবে?

শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা ফজিলতপূর্ণ। এই মাসে প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার, আইয়ামে বীজের রোজা সুন্নত। এছাড়াও আরও বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উচিত একজন মুসলিমের জন্য। হাদিসে শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

তবে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজার ফজিলতের আলোচনার কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, শাবান মাসে কি এমন কোনো নির্দিষ্ট দিন আছে, যেদিন রোজা রাখলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়? 

আলেমদের মতে, শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা অবশ্যই প্রশংসনীয় ও সুন্নাহসম্মত। তবে এ মাসে রোজার জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট কোনো দিনকে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বলে ঘোষণা করার পক্ষে কোরআন ও সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অন্য মাসের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন, তবে তিনি কখনো নির্দিষ্ট কোনো দিনকে আলাদা করে চিহ্নিত করেননি। তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত রমজানের আগে আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া।

ইসলামে ইবাদত ব্যক্তিগত পছন্দ বা আবেগের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তা কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক হতে হয়। তাই কোনো সহিহ দলিল ছাড়া শাবানের নির্দিষ্ট দিনকে বিশেষ ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

নবীজির আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব

আলেমরা বলেন, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য মুসলমানদের সব ধরনের ইবাদতে সচেষ্ট হওয়া উচিত। তবে সেই ইবাদত অবশ্যই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথ অনুযায়ী হতে হবে।

তিনি আমাদের জন্য একটি স্পষ্ট আদর্শ রেখে গেছেন, যাতে আমরা সঠিক পথে অবিচল থাকতে পারি। একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো, নিজের আমল কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা।

শাবান মাসে নবীজির রোজার অভ্যাস

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান ছাড়া আর কোনো মাসে পুরো মাস রোজা রাখেননি। তবে শাবান মাসে তিনি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন।

এই হাদিসের মাধ্যমে আলেমরা এমন একটি প্রচলিত রীতির সমালোচনা করেছেন, যেখানে কেউ কেউ টানা তিন মাস অর্থাৎ, রজব, শাবান ও রমজানে টানা রোজা রাখেন, এরপর শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করেন। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন ছাড়া প্রায় তিন মাসের বেশি সময় একটানা রোজা রাখা হয়। অথচ নবীজি (সা.) ও তার সাহাবিরা কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের কেউ এমনটি করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।

হজরত আয়েশা (রা.) আরও জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসেই কিছু দিন রোজা রাখতেন। কখনো টানা কয়েক দিন রোজা রাখতেন, আবার কখনো বিরতিও দিতেন, এতটাই বিরতি দিতেন যে সাহাবিরা ভাবতেন, তিনি হয়তো আর রোজা রাখবেন না।

তিনি সাধারণত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখতেন। কখনো আবার এক দিন পর পর রোজা রাখতেন, যা হজরত দাউদ (আ.)-এর রোজার পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা—এক দিন রোজা, এক দিন বিরতি।

তাহলে শাবানে করণীয় কী?

শাবান মাসে রোজা রাখা সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে এই মাসে রোজার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার শরিয়তসম্মত ভিত্তি নেই।

আলেমদের মতে, ইবাদতের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। মানুষের নিজস্ব মত বা রুচির ভিত্তিতে নতুন কোনো নিয়ম তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

মুসলমানদের উচিত নিয়মিত নফল রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে শাবান মাসকে রমজানের প্রস্তুতির সময় হিসেবে কাজে লাগানো। 

এনটি