শাবান মাসের শেষ ৫ দিন রোজা রাখার বিধান

রমজানের প্রস্তুতি উপলক্ষে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখেন মুসলিমরা। শাবান মাসের পুরো সময় রোজা রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই মাসের শেষ দিনগুলোতে রোজা রাখা নিয়ে কিছু মত পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে আলেমরা বলেছেন, শাবান মাসের প্রথম ভাগে বেশি বেশি রোজা রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ। তবে রমজান খুব কাছাকাছি চলে এলে রোজা বন্ধ রাখা উত্তম।
রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের অধিকাংশ দিন রোজা রাখতেন। তবে রমজান ঘনিয়ে এলে তিনি রোজা রাখা বন্ধ করে দিতেন।
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, নবীজি (সা.) শাবান মাসের বেশির ভাগ দিন রোজা রাখতেন, কিন্তু রমজানের আগ মুহূর্তে এসে তা ছেড়ে দিতেন।
আরও পড়ুন
এই হাদিসের ভিত্তিতে আলেমদের মত হলো, শাবান মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নফল রোজা রাখা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে শেষ কয়েক দিন, বিশেষ করে শেষ পাঁচ দিন রোজা না রেখে বিরতি দেওয়া উত্তম।
এর পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। নবীজি (সা.) চেয়েছেন, শাবানের রোজা ও রমজানের ফরজ রোজা যেন একসঙ্গে মিশে না যায়। অর্থাৎ শাবানের রোজা শুধু প্রস্তুতির জন্য আর রমজানের রোজা স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত। তাই শাবানের শেষ দিনগুলোতে রোজা রেখে যেন এই দুটি ইবাদত একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা না হয়।
শাবান হলো রমজানের জন্য শরীর ও মনকে প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়। কিন্তু ফরজ রোজার আগে টানা নফল রোজা রেখে শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্ত করে ফেলা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।
তাই শাবান মাসে বেশি বেশি ইবাদত করা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে তা সুন্নাহর সীমার মধ্যেই হওয়া উচিত এবং এর মাধ্যমে যেন রমজানের ইবাদতে প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
এনটি