শাবান মাসে রমজানের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলোর একটি শাবান। রজব ও রমজানের মাঝামাঝি অবস্থান করা এই মাসকে বিশেষ মর্যাদার মাস বলে উল্লেখ করেছেন নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আলেমরা বলেছেন, শাবান হচ্ছে আত্মশুদ্ধি ও রমজানের প্রস্তুতির সেরা সময়। এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার প্রতি জোর দিয়েছেন তারা।
বুদ্ধিমান মুসলমানের জন্য বরকতময় শাবান মাসের সময়কে কাজে লাগিয়ে যতটা সম্ভব সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
এই মাসের প্রথমার্ধে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে রমজান খুব কাছাকাছি চলে এলে রোজা কমিয়ে দেওয়া উত্তম, যাতে শাবানের রোজা সরাসরি রমজানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে না যায়।
আরও পড়ুন
কোরআন তিলাওয়াতের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে এ মাসে। পূর্বসূরী নেককার মুসলমানদের অনেকেই শাবানকে ‘কোরআন তিলাওয়াতের মাস’ বলে আখ্যায়িত করতেন। পাশাপাশি নিয়মিত জিকির ও আল্লাহর স্মরণে অভ্যস্ত হওয়ার কথাও বলতেন।
রমজানের রোজা ও ইবাদত সঠিকভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল ও আদব-কায়দা এই মাসেই ঝালিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেমরা।
শাবান মাসে একটি বিশেষ দোয়া রয়েছে। মহানবী (সা.) রমজান মাসের বরকত লাভের জন্য এই দোয়াটি পড়তেন। আমরাও শাবান মাসে দোয়াটি পড়তে পারি। দোয়াটি হলো ‘হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে শাবানের মতো বেশি রোজা রাখতেন না। আলেমদের মতে, এটি মূলত রমজানের জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতির অংশ।
শাবান মাসের সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ইমান, আমল ও চরিত্র শুদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত আমাদের সবার।
এনটি