রমজানে মসজিদের শৃঙ্খলায় যে সিদ্ধান্ত নিলো সৌদি আরব

এবার রমজান মাসে মসজিদ পরিচালনায় কঠোর নিয়মকানুন জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদের অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি, নামাজের সময়সূচি, ইফতার আয়োজন, দান-অনুদান ও ইতেকাফসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনা সৌদি আরবের সব মসজিদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদের কর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র চরম জরুরি পরিস্থিতিতে এবং পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে অনুপস্থিত থাকা যাবে। সে ক্ষেত্রেও বিধি অনুযায়ী যোগ্য বিকল্প ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হবে।
নামাজের সময় নির্ধারণে উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এশার নামাজের আজান সময়মতো দিতে হবে এবং এশা ও ফজরের ক্ষেত্রে আজান ও ইকামতের মাঝখানে ১৫ মিনিটের ব্যবধান রাখতে হবে, যাতে মুসল্লিরা জামাতে শরিক হওয়ার সুযোগ পান।
রমজানের শেষ দশ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ ভোরের অনেক আগেই শেষ করতে হবে, যাতে মুসল্লিরা সেহরি ও ফজরের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।
নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো যাবে। তবে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে নামাজের সময় মুসল্লি বা ইমামদের ভিডিও ধারণ করা যাবে না।
এ ছাড়া কোনো মাধ্যমেই সরাসরি নামাজ সম্প্রচার বা প্রচার করা যাবে না। ধর্মীয় ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষা এবং বাণিজ্যিক অপব্যবহার ঠেকাতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে বা আশপাশে ভিক্ষা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাকাত ও অনুদান শুধু অনুমোদিত ও বৈধ খাতে বিতরণ করতে হবে। কেউ ইতেকাফ করতে চাইলে তাকে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা হবে। বিদেশি বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে স্পনসর বা নিয়োগকর্তার অনুমোদন নিয়ে ইতেকাফে বসতে হবে।
মসজিদের নির্ধারিত প্রাঙ্গণে, কর্মীদের তত্ত্বাবধানে ইফতার আয়োজন করা যাবে। প্রতিবার ইফতারের পরপরই স্থান পরিষ্কার করতে হবে।
তবে ইফতারের জন্য নগদ অর্থ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। ইফতার আয়োজন করতে হবে সরকারি অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে ও স্বচ্ছ তহবিল ব্যবহার করে।
বোতলজাত পানি বিতরণও প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিসরে করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত মজুত নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে অপচয় না হয় এবং সঠিকভাবে বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব নিয়মের উদ্দেশ্য হলো রমজান মাসে মসজিদগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মুসল্লিদের ইবাদতে স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় পরিবেশের পবিত্রতা রক্ষা করা।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
এনটি