মুসলিমরা যেভাবে শবে বরাত পালন করেন

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালে শবে বরাত পালিত হবে মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে। হিজরি ১৪৪৭ সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ সূর্যাস্তের পর শুরু হবে শবে বরাত এবং ১৫ তারিখ সুবহে সাদিক পর্যন্ত এই রজনী পালন করা হবে। ইসলামী ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ এই রাতকে অনেক মুসলমান ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির রাত হিসেবে বিবেচনা করেন।
শবে বরাত ইসলামী বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের মধ্যরাতে পালিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। শাবান মাসের ১৪ তারিখ সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে ১৫ তারিখ ভোর পর্যন্ত সময়কে শবে বরাত বা নিসফে শাবান বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি শবে বরাত নামে পরিচিত হলেও আরব বিশ্বে একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পরিচিত নিসফু শাবান নামে এবং তুরস্কে একে বলা হয় বেরাত কান্দিলি।
অনেক মুসলমান এই রাতকে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর রহমত লাভের বিশেষ সময় হিসেবে মানেন। তাই তারা রাত জেগে নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন।
শাবান হলো ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস। এই মাসকে রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনার মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন। কখনো কখনো তিনি প্রায় পুরো মাসই রোজা রাখতেন। এতে শাবান মাসের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
হাদিসের আলোকে শবে বরাত
শবে বরাতের নির্দিষ্ট ফজিলত সম্পর্কে কোরআনে সরাসরি কোনো আয়াত পাওয়া যায় না। তবে কিছু হাদিসে এই রাতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। একটি বর্ণনায় এসেছে, শাবান মাসের মধ্যরাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাতে দীর্ঘ সময় নামাজে মশগুল ছিলেন।
আলেমদের মতামত
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, পাঁচটি রাতে দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায়। এর মধ্যে শাবান মাসের মধ্যরাতও অন্তর্ভুক্ত। ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতে, কয়েকটি বিশেষ রাতে কল্যাণের দরজা খুলে দেওয়া হয়, যার একটি হলো নিসফে শাবানের রাত।
শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোজা
শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখার কথা হাদিসে পাওয়া গেলেও ১৫ তারিখকে বিশেষভাবে রোজার জন্য নির্ধারণ করার বিষয়ে সহিহ হাদিস নেই। তাই এই দিনকে আলাদা করে ফরজ বা সুন্নত মনে করে রোজা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এই দিনে আইয়ামে বীজের রোজা রাখা যেতে পারে।
শবে বরাতের প্রচলিত রীতিনীতি
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শবে বরাত নানা রীতিতে পালিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক জায়গায় হালুয়া বা মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়। কোথাও কোথাও আতশবাজিও ফোটানো হয়, যা ধর্মীয় দৃষ্টিতে সমর্থিত নয় এবং কিছু আলেম একে বিদআত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাধারণত এই রাতকে আলাদা করে উদযাপন করা হয় না।
করণীয় কী
আলেমদের মতে, শবে বরাতে ইবাদত করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, নিজের ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উত্তম আমল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা।
সব মিলিয়ে, শবে বরাত মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি সুযোগ। এই রাতকে শান্তভাবে ইবাদত ও দোয়ায় কাটানোই ইসলামের মূল শিক্ষা।
এনটি