রমজানে তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে পড়া যাবে?

মহানবী (সা.)-এর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল ছিল তাহাজ্জুদের নামাজ। এক হাদিসে তিনি বলেন, রমজানের রোজার পর সবচেয়ে উত্তম রোজা মহররমের। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম হলো রাতের নামাজ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)
রমজানে অন্যান্য নফল ইবাদতের মতো তাহাজ্জুদের প্রতিও নবীজি (সা.)-এর আকর্ষণ বেড়ে যেত। তিনি রমজানে অধিক পরিমাণে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে তাহাজ্জুদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। তবে তিনি অবশ্যপালনীয় বিষয় হিসেবে নির্দেশ দেননি। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সঙ্গে রমজানে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্ববর্তী পাপ মার্জনা করবেন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২১৯৭)
রমজানে তাহাজ্জুদ নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেন প্রায় প্রত্যেক মুসলমান। তবে তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে আদায় করা যাবে কিনা এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ বিষয়ে ফেকাহবিদ আলেমদের মতামত হলো—
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ, জুমা ও দুই ঈদের নামাজ জামাতে আদায় করা হল ইসলামের শিআর বা নিদর্শন। এছাড়া তারারি, রমযানের বিতর, ইস্তিসকা ও সূর্যগ্রহণের নামাজ জামাতে আদায় করা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত ও সুন্নত। কিন্তু তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য সুন্নত ও নফল নামাজ শরীয়তের দৃষ্টিতে একাকী ও ঘরে আদায় করার মতো নামাজ। যে কারণে এগুলোতে আজান-ইকামত এবং জামাতের আয়োজনের বিধান নেই।
রাসুল (সা.), খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের সাধারণ আমল এমনই ছিল। তারা তাহাজ্জুদ ও নফল ঘরে একাকী আদায় করতেন। হাদিস ও সীরাতের বর্ণনানুযায়ী নবী-যুগে একটি অথবা দুটি ঘটনাই এমন পাওয়া যায় যে, নবী করীম (সা.) তাহাজ্জুদের নামাজ শুরু করার পর কোনো সাহাবি এসে ইক্তিদা করেছেন। এ জাতীয় এক দুটি ঘটনা ছাড়া, (জামাত যেখানে ঘটনাচক্রে হয়ে গিয়েছিল, উপরন্তু তা ছিল মাত্র এক দুই জনের।) তাহাজ্জুদের জামাতের অন্য কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।
তাই ফিকহে হানাফীর ফাতাওয়া হল, তাহাজ্জুদের নামাজ তা রোজার মাসে পড়া হোক কিংবা অন্য মাসে, একাকী পড়া উচিত। এতে জামাতর পাবন্দি করা ঠিক নয়। তবে কেউ যদি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া কোনো ব্যক্তির ইক্তিদা করে ফেলে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এটাকে নিয়মে পরিণত করা সুন্নতের পরিপন্থী।
হারামাইন শরীফাইন অর্থাৎ সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে আদায়ের প্রচলন রয়েছে। এ বিষয়ে ফেকাহবিদদের মতামত হলো—
হারামাইন শরীফাইনে তাহাজ্জুদের নামাজ জামাতে পড়া হয় হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী। কারণ, হাম্বলী মাজহাবে যেকোনো নফল নামাজ জামাতে পড়া যায়।(আল কাউসার)