বিজ্ঞাপন

পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে ১০ হাদিসে

অ+
অ-
পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে ১০ হাদিসে

সুস্থতা, পবিত্রতা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামে। যেখানে পৃথিবীর অনেক জাতি আধ্যাত্মিকতা অর্জনের নেশায় শারীরিক পরিচ্ছন্নতাকে উপেক্ষা করেছে, সেখানে ইসলাম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বশর্ত হিসেবে শরীরের পবিত্রতাকে বাধ্যতামূলক করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামে পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি ভালো অভ্যাসই নয়, বরং একে ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। একজন মুসলিমকে নামাজের জন্য যেমন অজু করতে হয়, তেমনি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পুরো শরীর ধোয়া বা গোসল করা ফরজ। এমনকি দাঁত মাজা বা পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলাম মূলত মানুষের ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করে। একজন সুস্থ ও শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে অধিক প্রিয়। স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নবীজি (সা.)-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস নিচে তুলে ধরা হলো—

১. পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক 

বিজ্ঞাপন

আবু মালিক আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পবিত্রতা হচ্ছে ঈমানের অর্ধেক। (সহিহ মুসলিম)

 ২. মেসওয়াক বা দাঁত মাজার গুরুত্ব

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, মেসওয়াক মুখ গহ্বরকে পবিত্র ও পরিষ্কার করে এবং এতে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। (নাসায়ি ও ইবনে খুজাইমা)

বিজ্ঞাপন

৩. নামাজের আগে দাঁত পরিষ্কার

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক নামাজের আগে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (বুখারি ও মুসলিম)

৪. মানুষের স্বভাবজাত পরিচ্ছন্নতা

নবীজি (সা.) বলেছেন, পাঁচটি বিষয় মানুষের স্বভাবজাত বা ফিতরাত: খতনা করা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং গোঁফ ছোট রাখা। (বুখারি ও মুসলিম)

৫. জুমার দিনের বিশেষ পবিত্রতা

আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভালো করে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করবে, সাধ্যমতো উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাবে এবং অনর্থক কথা বলবে না, মহান আল্লাহ তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (ইবনে মাজাহ)

৬. পরিবেশ দূষণ থেকে সতর্কবার্তা

মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, অভিশপ্ত হওয়ার মতো তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো—পথচারীর চলার পথে, মানুষের বিশ্রামের ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পানির ঘাটে মলমূত্র ত্যাগ করা। (আবু দাউদ)

৭. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো

আবু জার গিফারি (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাও একটি সদকা বা পুণ্য। (সহিহ বুখারি)

 ৮. অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া

উসামা ইবনে শারিক (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার কিছু মরুবাসী আরব নবীজিকে প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কি অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া উচিত?' তিনি বললেন, তোমরা অবশ্যই চিকিৎসা নেবে। কারণ মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিকার বা প্রতিষেধক তিনি রাখেননি। তবে একটি রোগ বাদে—আর তা হলো বার্ধক্য। (আবু দাউদ)

 ৯. সুস্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী ও কর্মক্ষম মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তোমার যা উপকারে আসে তা অর্জনে সচেষ্ট থাকো এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও, কখনো হাল ছেড়ো না। (সহিহ মুসলিম)

১০. অতিরিক্ত ভোজন পরিহার

আল-মিকদাম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র মানুষ পূর্ণ করে না। মানুষের পিঠ সোজা রাখার জন্য সামান্য খাবারই যথেষ্ট। যদি একান্তই বেশি খেতে হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা উচিত। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)

এনটি

বিজ্ঞাপন