বিজ্ঞাপন

নবী ইব্রাহিমের (আ.) সঙ্গে যে বিতর্কে জড়িয়েছিল নমরুদ

অ+
অ-
নবী ইব্রাহিমের (আ.) সঙ্গে যে বিতর্কে জড়িয়েছিল নমরুদ

পবিত্র কোরআনে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে এক প্রতাপশালী শাসকের বিতর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই শাসক ছিলেন প্রাচীন ব্যাবিলনের রাজা নমরুদ। ধারণা করা হয়, ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক মূর্তি ভাঙার ঘটনার পর এবং তাকে আগুনে নিক্ষেপ করার ঠিক আগমুহূর্তে এই বিতর্কটি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষা নিচে তুলে ধরা হলো—

সার্বভৌমত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ

নমরুদের ক্ষমতা সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়েছে, সকল ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন, আবার যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা ছিনিয়ে নেন। 

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতা মূলত একটি গুরুদায়িত্ব। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে বান্দাকে পরীক্ষা করেন। নমরুদ এই পরীক্ষায় শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। ক্ষমতার দম্ভে সে এতটাই অন্ধ ছিল যে, নিজেকে খোদা দাবি করতেও দ্বিধাবোধ করেনি।

স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও ঐশ্বরিক অধিকারের ভ্রান্ত ধারণা

ইতিহাসের পাতায় নমরুদই প্রথম শাসক, যে চরম স্বৈরতন্ত্রের সাথে রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকার তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়েছিল। এই ধারাটি ছিল একত্ববাদ থেকে বিচ্যুত হয়ে শিরক বা অংশীদারত্বের গহ্বরে পতনের চূড়ান্ত পর্যায়। এর ফলে শাসকরা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করতে শুরু করে। তারা দাবি করত যে, তাদের শাসনের অধিকার সরাসরি স্বর্গ থেকে আসা। সাধারণ মানুষের অধিকার সেখানে ভূলুণ্ঠিত হতো এবং তারা দাসে পরিণত হতো।

বিজ্ঞাপন

নমরুদের পর এই ধারা প্রাচীন মিশর (ফেরাউন), মেসোপটেমিয়া, ভারত ও চীনে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের অনেক রাজা এই একই পথে হেঁটেছেন। ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই তো বলেই ফেলেছিলেন, আমিই রাষ্ট্র। আধুনিক যুগের ফরাসি বিপ্লব এবং জ্ঞানালোকের যুগের মূল লক্ষ্যই ছিল এই চরম রাজতন্ত্র ও গির্জার অযৌক্তিক গোঁড়ামি উপড়ে ফেলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামের অবস্থান ও বাস্তবতা

শুরু থেকেই ইসলাম বংশপরম্পরায় চলে আসা স্বৈরতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করেছে। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যখনই মুসলিম শাসনের প্রকৃত চেতনা দুর্বল হয়েছে, শাসকরা রাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের কোনো কোনো পর্যায়েও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। মূলত যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চরমপন্থা আসলে নমরুদবাদেরই একেকটি রূপ।

ইব্রাহিম (আ.)-এর জোরালো যুক্তি

তর্কযুদ্ধের একপর্যায়ে ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন, আমার পালনকর্তা তিনিই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। জবাবে নমরুদ দম্ভভরে বলেছিল, আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই। সে একজন প্রাণদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে এবং একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে নিজের মূর্খতাপূর্ণ যুক্তি প্রমাণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইব্রাহিম (আ.) যখন বললেন, আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো—তখন সেই অবিশ্বাসী রাজা স্তম্ভিত ও নির্বাক হয়ে যায়।

এনটি