বিজ্ঞাপন

শাওয়াল মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনাসমূহ

অ+
অ-
শাওয়াল মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনাসমূহ

ইসলামী ক্যালেন্ডার বা হিজরি বর্ষের দশম মাস হলো শাওয়াল। পবিত্র রমজানের রেশ কাটতে না কাটতেই এই মাসের আগমন ঘটে। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত আনন্দের, কারণ এই দিনেই পালিত হয় ঈদুল ফিতর।

বিজ্ঞাপন

নামের উৎপত্তি ও ইতিহাস

শাওয়াল শব্দের অর্থ হলো উত্তোলন করা বা বিরতি। ইসলামপূর্ব যুগে আরবদের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করলে তা সফল হয় না। তবে ইসলাম এই কুসংস্কার দূর করে। মূলত শলা শব্দ থেকে এই মাসের নামকরণ হয়েছে, যার অর্থ উট গর্ভধারণ করা। যখন এই মাসের নামকরণ করা হয়েছিল, তখন সাধারণত উট এই সময়ে গর্ভধারণ করত।

শাওয়াল মাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তারিখ ও ঘটনা

বিজ্ঞাপন

ইসলামী ইতিহাসে শাওয়াল মাস বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই মাসের উল্লেখযোগ্য তারিখগুলো:

১ শাওয়াল: পবিত্র ঈদুল ফিতর।
৭ শাওয়াল: ঐতিহাসিক ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৩ শাওয়াল: প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম বুখারীর জন্ম।
২৫ শাওয়াল: ইমাম জাফর আস-সাদিকের (রা.) শাহাদাত বরণ।

শাওয়ালের ছয় রোজা ও এর ফজিলত

বিজ্ঞাপন

ঈদুল ফিতরের পরের দিন অর্থাৎ ২ শাওয়াল থেকেই অনেকে ছয়টি নফল রোজা রাখা শুরু করেন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ, তাই ঈদের পর পুরো মাসের যেকোনো সময় এই রোজা রাখা যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, রমজানের ৩০টি রোজার পর শাওয়ালের এই ৬টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০ দিনের বদলে ৩০০ দিন এবং শাওয়ালের ৬ দিনের বদলে ৬০ দিন—মোট ৩৬০ দিন বা পুরো বছরের সওয়াব অর্জিত হয়।

শাওয়ালের রোজা টানা রাখতে হবে?

শাওয়ালের এই ছয়টি রোজা কি টানা রাখতে হবে নাকি বিরতি দিয়ে রাখা যাবে, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। শাফেয়ী মাজহাবের আলেমদের মতে, ঈদের পর টানা ছয় দিন রোজা রাখা উত্তম। অন্যদিকে হানাফি ও হাম্বলি মাজহাবের মতে, বিরতি দিয়ে বা মাসের যেকোনো সময় এই রোজা রাখলেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে। মালেকি মাজহাবের মতেও ধারাবাহিকভাবে বা আলাদাভাবে রোজা রাখার সুযোগ রয়েছে।

শাওয়ালের বরকত

শাওয়ালের প্রথম দিনটি মূলত রমজানের কঠোর ত্যাগের পুরস্কার পাওয়ার দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের পর মহান আল্লাহ এই দিনে মুমিনদের গুনাহ মাফ করে দেন এবং আনন্দের অনুমতি দেন। আধ্যাত্মিক দিক থেকে শাওয়াল হলো রমজানের শিক্ষা ও অভ্যাসগুলো বাকি ১১ মাস ধরে রাখার একটি প্রস্তুতিমূলক সময়।

এনটি

বিজ্ঞাপন