বিজ্ঞাপন

আপনার ঈমান কতটা মজবুত? যাচাই করে নিন নিজেই

অ+
অ-
আপনার ঈমান কতটা মজবুত? যাচাই করে নিন নিজেই

ঈমান শুধু কিছু বিশ্বাসে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে তা ধারণ করা ও কাজের মাধ্যমে এর প্রতিফলন ঘটানো ঈমানের অংশ।সাধারণত আরবি শব্দ ঈমানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসেবে বিলিফ বা বিশ্বাস ব্যবহার করা হয়। তবে এই অনুবাদের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, ইংরেজি ভাষায় বিশ্বাস বলতে শুধু মনের একটি অবস্থাকে বোঝায়, যার জন্য কোনো কাজ বা অ্যাকশনের প্রয়োজন পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি মানবাধিকারের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন, কিন্তু আপনার কাজ বা আচরণ তার উল্টো হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ইসলামের পরিভাষায় ঈমান এমন এক উপলব্ধি যা মানুষকে কাজ করতে বাধ্য করে। বিখ্যাত গবেষক আসাদ জলিল লিখেছেন, ইমান মানেই হলো একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে নিজেকে সঁপে দেওয়া। একজন মুমিন শুধু আল্লাহকে বিশ্বাসই করেন না, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।

পবিত্র কোরআনের সূরা ফাতহ-এর ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেন যাতে তাদের ঈমানের সঙ্গে আরও ইমান বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, আপনি যত বেশি ইখলাসের সাথে নেক আমল করবেন, আপনার ইমান তত মজবুত হবে।

আপনার ঈমান কোন পর্যায়ে আছে তা বুঝতে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর সবসময়, মাঝে মাঝে নাকি কখনোই না—এই তিনভাগে মিলিয়ে নিন :

বিজ্ঞাপন

১. আপনি কতবার আল্লাহকে স্মরণ করেন?
২. আল্লাহর স্মরণে কি আপনার মন প্রশান্তি পায়?
৩. আপনি কি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখেন?
৪. আপনি কি অনুভব করেন যে আপনার জীবনের একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে?
৫. আপনার হৃদয় কি সব পরিস্থিতিতে স্থির থাকে?
৬. কোনো গুনাহের চিন্তা মাথায় এলেও কি আপনার মনে অনুশোচনা হয়?
৭. আপনি কি ধৈর্যশীল এবং ক্ষমাশীল হতে পেরেছেন?
৮. আপনার আচরণ ও আখলাক কি সুন্দর?
৯. আপনি কি অন্যের জন্য তা-ই পছন্দ করেন যা নিজের জন্য করেন?

ফলাফল ও মূল্যায়ন

আপনার উত্তর যদি সবসময় বা প্রায়ই হয় তাহলে অভিনন্দন! আপনার কাজ আপনার বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। আল্লাহ আপনার অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করেছেন। এখন আপনার পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত ইহসান বা উৎকর্ষ অর্জন করা। অর্থাৎ, এমনভাবে ইবাদত করা যেন আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন অথবা আল্লাহ আপনাকে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার উত্তর যদি মাঝে মাঝে বা খুব কম হয়— তাহলে হয়তো আপনার ইমান এই মুহূর্তে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় আছে। তবে এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। মানুষের ঈমান বাড়ে এবং কমে, এটি খুবই স্বাভাবিক। রাসুলের (সা.) সাহাবীদের জীবনেও এমনটা দেখা যেত। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায় এমন কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

আপনার উত্তর যদি না বা কখনোই না হয়— তাহলে মনে রাখবেন, কাজ ছাড়া শুধু মুখের বিশ্বাস দিয়ে মজবুত ঈমান গড়া সম্ভব নয়। তবে এটি মোটেও কোনো চরম সংকট নয়। আমাদের সবার সামনেই ঈমান বাড়ানোর সুযোগ আছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমনই। সে যদি আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাত এগিয়ে যাই।

তাই আজই আমলের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে পা বাড়ান। দেখবেন আপনার জীবনে প্রশান্তি, স্থিরতা এবং জীবনের নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। এর মাধ্যমেই অর্জিত হবে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ।

সূত্র : অ্যাবাউট ইসলাম

এনটি