বিজ্ঞাপন

নবীদের জ্বর নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

অ+
অ-
নবীদের জ্বর নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মহানবীর (সা.) অসুস্থতার সময় তার কাছে এলাম। এরপর তার শরীরে হাত বুলালাম। এ সময় তিনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি বললাম: আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত এবং এটা এ জন্য যে আপনার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেন: হ্যাঁ! কোন মুসলিম ব্যক্তির উপর কোন কষ্ট আপতিত হলে তার উপর থেকে গুনাহগুলো এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে যায়। (বুখারি, হাদিস : ৫২৫৯)

বিজ্ঞাপন

হাদিসের ব্যাখ্যা

নবীজি (সা.)-এর জ্বর অন্যদের জ্বরের দ্বিগুণ হতো কেন? এর উত্তর অপর এক হাদিসের জানা যায়। এক হাদিসে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলাম। তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তার গায়ের কম্বলের উপর হাত রাখলাম। এতেই জ্বরের উত্তাপ অনুভব করলাম। বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার জ্বর কী তীব্র। তিনি বললেন, হাঁ, আমরা নবীদের জামাত। আমাদের অসুখ বিসুখ দ্বিগুণ হয়ে থাকে। ফলে প্রতিদানও দ্বিগুণ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এক হাদিসে আছে, হজরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.) নবী কারীম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সর্বাপেক্ষা বেশি কঠিন পরীক্ষা নেওয়া হয় কার? তিনি বললেন, নবীগণের। তারপর যারা নবীগণের যতবেশি অনুসারী তাদের। মানুষের পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে তার দীনদারী অনুপাতে।

মহানবী (সা.) যেহেতু নবীগণের মধ্যেও সবার সেরা. তাই তার পরীক্ষাও নেওয়া হত সর্বাপেক্ষা বেশি কঠিন। সেই হিসেবেই তার জ্বর হতো অন্যদের চেয়ে বেশি এবং কষ্ট-ক্লেশও করতে হয়েছে সর্বাধিক।

হাদিসের শিক্ষা 

বিজ্ঞাপন

  • ১. এই হাদিসের মাধ্যমে রোগ-ব্যাধিতে ধৈর্য ধারণের ফজিলত জানা গেল।
  • ২. আরও জানা গেল, যে ব্যক্তি আল্লাহর যত প্রিয় তার পরীক্ষাও ততবেশি কঠিন।
  • ৩. রোগ-ব্যাধি দিয়ে যেমন গুনাহ মাফ হয়, তেমনি মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে নবীদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেত।