সাকিব সর্বোচ্চ রান করলেও পারল না এমিরেটস, চ্যাম্পিয়ন ভাইপার্স

দুইবার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর তৃতীয়বারে ফাইনালের জুজু কাটাতে পারল ডেজার্ট ভাইপার্স। দুবাইয়ে ৪৬ রানে এমআই এমিরেটসকে হারিয়ে প্রথম আইএল টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতেছে তারা।
এই জয়ে সামনে থেকে অবদান রেখেছেন অধিনায়ক স্যাম কারান। ৫১ বলে ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তার সঙ্গে ম্যাক্স হোল্ডেন (৩২ বলে ৪১ রান) ও ড্যান লরেন্স (১৫ বলে ২৩) কার্যকরী ইনিংস খেলেন। তাতে ভাইপার্স ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮২ রান করে।

এমিরেটস লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জেতার আশা তৈরি করতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। নাসিম শাহ দুর্দান্ত ছিলেন। চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। মাঝের ওভারে উসমান তারিক ছিলেন অসাধারণ। ২০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ডেভিড পেইন ৪২ রান খরচায় পান তিন উইকেট, এক ওভারেই উইকেটগুলো নেন তিনি। এমিরেটস ১৮.৩ ওভারে ১৩৬ রানে অলআউট হয়। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হিসেবে শিরোপা জেতে ভাইপার্স। এনিয়ে চার মৌসুমে চারটি ভিন্ন দল চ্যাম্পিয়ন হলো। ভাইপার্সের আগে গালফ জায়ান্টস, এমিরেটস ও দুবাই ক্যাপিটালস ট্রফি জিতেছিল।
এদিন টস জিতে ভাইপার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় এমিরেটস। প্রথম ওভারে বল করেন সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হজম করেন। তারপর আরও চারটি রান দেন তিনি। এক ওভারে ১০ রান দিয়ে সাকিব আর বল হাতে পাননি। ফজল হক ফারুকী চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাতে জেসন রয় ও ফখর জামানকে ফেরালেও ভাইপার্স ঘুরে দাঁড়ায়। হোল্ডেন ও কারান ৮৯ রানের জুটি গড়েন। তারপর অধিনায়কের সঙ্গে লরেন্স আরও ৫৭ রান যোগ করেন।
আট জন বোলারকে ব্যবহার করেও এমিরেটস কারানের আগ্রাসন ঠেকাতে পারেনি। তাদের হয়ে আর কেবল একটি উইকেট পেয়েছেন আরব গুল।
লক্ষ্যে নেমে অষ্টম ওভারে ৫৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে এমিরেটস। তখন প্রয়োজনীয় রান রেট বেড়ে ১১-এর কাছাকাছি। কিয়েরন পোলার্ডকে নিয়ে সাকিব দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাইপার্স তাদের লাইন লেন্থ ঠিক রেখে তাদের চাপে রাখেন। ৪৫ বলে ৬০ রান করে এই জুটি ভাঙে। ১৬তম ওভারে প্রয়োজনীয় রান রেট যখন ১৪-এর কাছাকাছি, লং অন দিয়ে তারিককে মেরে খেলেন সাকিব। কিন্তু যথেষ্ট জোর ছিল না শটৈ, তানভির ক্যাচ নেন। ২৭ বলে ৩ চারে ৩৬ রানে থামেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। তার চেয়ে বেশি রান আর কেউ করতে পারেননি। ছয় বল পর পোলার্ড ২৮ রান করে থামেন। তাতে এমিরেটসের দ্বিতীয় শিরোপার আশা শেষ হয়ে যায়। পেইন এক ওভারে তিন উইকেট নেওয়ার পর তানভির শেষ ব্যাটারকে ফেরাতে জয়ের উল্লাসে মাতে ভাইপার্স। এমিরেটস ৩.৩ ওভারে ২২ রানে শেষ ছয় উইকেট হারায়।
এফএইচএম/