‘মাদ্রিদ ডার্বি’ জিতে ফাইনালে বার্সার সামনে রিয়াল

স্প্যানিশ সুপার কাপে গত তিনবার ফাইনালে হয়েছিল এল ক্লাসিকো। এর মধ্যে দুইবার রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। এ বছর আবারো দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সেমিফাইনালে জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে ২-১ গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে রিয়াল।
মাদ্রিদ ডার্বি জেতা জাবি আলোনসোর দল এবার ১৪তম ট্রফি জয়ের মিশনে। আর রেকর্ড ১৫ ট্রফির সঙ্গে আরেকটি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্য থাকবে বার্সার। আগামী রোববার হবে বছরের প্রথম এল ক্লাসিকো।
অ্যাটলেটিকোকে পেছনে ফেলতে রিয়ালের সময় লেগেছে মাত্র ২ মিনিট। চমৎকার ফ্রি কিক থেকে ফেদেরিকো ভালভার্দে গোলমুখ খোলেন। হাফটাইমের পর দশম মিনিটে রদ্রিগোর গোলে আরও এগিয়ে যায় রিয়াল। তিন মিনিট পর আলেক্সান্দার সোরলোথ একটি গোল শোধ দেয়। পরে আরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও সমতার দেখা পায়নি অ্যাটলেটিকো।
সৌদিতে দলের সঙ্গে যাননি কিলিয়ান এমবাপে। হাঁটুর চোট নিয়ে মাঠের বাইরে আছেন তিনি। তার বদলি হয়ে গনজালো গার্সিয়া রিয়াল বেতিস ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন। জানা গেছে, ফরাসি ফরোয়ার্ড রোববারের আগে স্কোয়াডে যোগ দিতে পারেন।
রিয়াল তাদের প্রথম সুযোগ থেকেই লিড নেয়। জুড বেলিংহ্যাম ফাউলের শিকার হলে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে ভালভার্দে ৩০ গজ দূর থেকে এক জোরালো শটে বল জালে জড়ান।
২৯ মিনিটে রদ্রিগোর একটি আক্রমণ অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক দারুণভাবে রুখে দেন। তবে প্রথমার্ধের বাকিটা সময় জুড়ে অ্যাটলেটিকো তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের রক্ষণে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায়।
প্রথমে অ্যালেক্স বায়েনার একটি শক্তিশালী শট থিবো কোর্তোয়া প্রতিহত করেন। এরপর রিয়াল কিপার আরও একটি চমৎকার সেভ করেন। কর্নার থেকে আসা সোরলোথের হেড হাত দিয়ে আটকে দেন। এরপর কনর গ্যালাঘারের ক্রস থেকে সোরলোথ একটি সহজ হেডের সুযোগ নষ্ট করেন ক্রসবারের উপর দিয়ে মেরে। এছাড়া বায়েনা এবং গ্যালাঘার দুজনেই গোলের আরও সুযোগ পেয়েছিলেন।
সমতা ফেরানোর দাবি রেখে প্রথমার্ধ শেষ করে অ্যাটলেটিকো। কিন্তু বিরতির ১০ মিনিট পরেই ডিয়েগো সিমিওনের দলের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও ছিল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এক চমৎকার নিদর্শন, যা পার্থক্য গড়ে দেয়। ভালভার্দের পাস থেকে পাওয়া বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অ্যাটলেটিকো রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যান রদ্রিগো। এরপর ঠান্ডা মাথায় ওবলাককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।
তবে অ্যাটলেটিকো দ্রুতই সাড়া দেয়। এবার আর ভুল করেননি সোরলোথ; গিউলিয়ানো সিমিওনের পাস থেকে ব্যাক পোস্টে থাকা এই ফরোয়ার্ড নিখুঁতভাবে গোলটি করেন।
ম্যাচ চলাকালীন সাইডলাইনে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও অ্যাটলেটিকো কোচ সিমিওনে। দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখতে হয়। তবে সিমিওনের জন্য হতাশা ছিল তার দল সমতা ফেরাতে না পারার কারণে।
শেষ দিকে আন্তোনিও গ্রিয়েজম্যান একটি ওভারহেড কিকের চেষ্টা করেন এবং মার্কোস লরেন্তে ও হুলিয়ান আলভারেজের শট গোলের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত রিয়াল তাদের লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে।
এফএইচএম/