ফাইনালে ম্যানসিটির এক পা

চলতি সপ্তাহেই এক্সটার সিটিকে ১০-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে পা রাখার তিন দিন পর কারাবাও কাপেও জয়ের ধারা ধরে রাখল তারা। গতকাল (মঙ্গলবার) সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সিটি। এই জয়ে লিগ কাপের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল তারা।
ম্যানসিটির জার্সিতে অভিষেকে গোল করেছিলেন আন্তোইন সেমেনিও। ৬ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডের উইঙ্গার দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে ফের জালের দেখা পান। বদলি নামা রায়ান শেরকি ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে জাল কাঁপান। ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় লেগের খেলা হবে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে।
পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নিউক্যাসলের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অ্যান্থনি গর্ডন ডানদিকে থাকা জ্যাকব মার্ফিকে একটি চমৎকার পাস দেন এবং মার্ফি দ্রুত ক্রস করেন ইউয়ানে উইসার উদ্দেশ্যে। উইসা বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁপায়ের শটে সেটি জেমস ট্র্যাফোর্ডের ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।
সিটির পাল্টা আক্রমণ ছিল সংগঠিত। দুই উইঙ্গার জেরেমি ডোকু এবং সেমেনিও নিউক্যাসলকে তাদের নিজেদের অর্ধে চেপে ধরেন। অষ্টম মিনিটে বার্নার্ডো সিলভার একটি ক্রস গোলমুখে অপেক্ষারত আর্লিং হালান্ডের কাছে পৌঁছানোর আগেই গোলরক্ষক নিক পোপ তা আঙুলের ছোঁয়ায় সরিয়ে দেন।
১৫তম মিনিটে গর্ডনের ক্রস থেকে জোয়েলিন্টন একটি হেড নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার মাঝমাঠে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকায় স্বাগতিকরা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল। মাঠের বাইরে একটি তর্কের ঘটনায় জোয়েলিন্টন এবং নিকো ও'রিলি উভয়কেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এছাড়া গর্ডনকে ফাউল করায় ফুল-ব্যাক মাথিউস নুনেসকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এক সময় ম্যাচটি শারীরিক শক্তিমত্তার লড়াইয়ে রূপ নেয়।
প্রচণ্ড উত্তেজনা ও প্রচেষ্টার পরও প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয় এবং কোনো গোলরক্ষককেই খুব বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।
বিরতির পর ৫০তম মিনিটে উইসার একটি লুপ করা হেড রুখতে ট্র্যাফোর্ডকে পুরো শরীর ব্যবহার করতে হয়। এরপর ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি শট পোস্টে লাগলে নিউক্যাসল গোলবঞ্চিত হয়।
তবে ৫৩ মিনিটে সফরকারী সিটি লিড নেয়। ডোকুর ক্রস থেকে সিলভা বলটি বাড়িয়ে দেন সেমেনিওর দিকে। খুব কাছ থেকে তিনি বল জালে জড়ান।
সেমেনিওকে নিয়ে সিটি অধিনায়ক বার্নার্ডো সিলভা আইটিভি স্পোর্টসকে বলেন, ‘সে শুধু একজন ভালো খেলোয়াড়ই নয়, একজন ভালো মানুষও, যেটা দলে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। সে সমষ্টিগতভাবে খেলতে চায়, সাহায্য করতে চায় এবং আনন্দ নিয়ে খেলে। সে যেভাবে শুরু করেছে তাতে আমরা দারুণ খুশি।’
৫৮ মিনিটে গিমারেসের একটি নিচু শট ট্র্যাফোর্ড তালুবন্দি করেন এবং লুইস হলের কর্নার থেকে সভেন বোটম্যানের হেড গোলরক্ষকের গায়ে লাগে। ৬৩ মিনিটে সেমেনিও আবারো বদলি খেলোয়াড় টিজানি রেইন্ডার্সের কর্নার থেকে বল পোপের পাশ দিয়ে জালে পাঠান। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর হালান্ড অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
৭১ মিনিটে সান্দ্রো টোনালি একটি শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি নিউক্যাসলের। দুইবার পোপের কাছে প্রতিহত হওয়ার পর শেরকি ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে সাফল্যের দেখা পান। বদলি খেলোয়াড় রায়ান আইত-নুরির সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে তিনি গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন।
এফএইচএম/