নেপাল দলে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অলরাউন্ডার

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও নেপাল চমক দেখানোর বেশ কাছে ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে অল্পের জন্য জিততে পারেনি তারা। এবার বেশ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে তারা। সাপোর্ট স্টাফের তালিকায় এবার যুক্ত করল ইয়ান হার্ভেকে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন এই অলরাউন্ডার।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে হার্ভেকে বোলিং কনসালট্যান্ট কোচ বানিয়েছে নেপাল। তিনি যোগ দেবেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান ও দলের প্রধান কোচ স্টুয়ার্ট ল'র সঙ্গে।
হার্ভে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৭৩ ওয়ানডে খেলে ৮৫ উইকেট নিয়ে ৭১৫ রান করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না খেললেও নিজেকে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বোলিংয়ে বৈচিত্র্যতা দিয়ে। কখনো ইয়র্কার করেছেন, আবার মাঝেমধ্যে বলের গতিতে পরিবর্তনও আনতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। আর লোয়ার্ড অর্ডারে গিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংও করেছেন। সব মিলিয়ে ৫৪ টি-টোয়েন্টি খেলে ৫২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি করেছেন ১৪৭০ রান। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি কাপে (বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট) প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগের প্রথম আসরের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ও হন।
বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে স্নায়ুচাপ সামলে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, সেই মানসিকতা হার্ভে নেপালের তরুণ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। এছাড়া নেপালের বর্তমান প্রধান কোচ ল ও হার্ভে উভয়ই অস্ট্রেলিয়ান ও ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলগুলোর আক্রমণাত্মক কৌশলের বিপরীতে কীভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হয়, তা এই অভিজ্ঞ জুটি ভালোভাবেই জানেন।
২০২৪ সালের বিশ্বকাপে নেপাল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে মাত্র ১ রানে হেরেছিল। জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলা তাদের বড় দুর্বলতা ছিল। হার্ভে মূলত তার বৈচিত্র্যময় স্লোয়ার এবং নিখুঁত ইয়র্কারের অভিজ্ঞতা দিয়ে নেপালের ডেথ ওভারের বোলিং এবং চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখার দক্ষতায় তিনি বেশ উন্নতি আনতে পারবেন।
নেপাল তাদের বিশ্বকাপ শুরু করবে ৮ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে মুম্বাইয়ে। সেখানেই ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে তারা।
এফএইচএম/