সেনেগালের মাঠ ত্যাগের ঘটনা নিয়ে যা বললেন ফিফা সভাপতি

আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্স শিরোপা জেতার আগে রেফারিদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগাল দলের মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সোমবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বাগতিক মরক্কোর বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগালের কোচ, খেলোয়াড় ও কিছু সমর্থকের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইনফান্তিনো। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালের জন্য যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ছিল।
রাবাতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি দেখার পর ফিফা প্রধান তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘গত রোববার যে কুৎসিত দৃশ্য দেখা গেছে তা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং এর পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আশা করি সিএএফ-এর সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা কমিটি এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা সব ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
মরক্কো যখন ইনজুরি টাইমে একটি পেনাল্টি পায়, তখন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও তার খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। এর ফলে খেলা প্রায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকে। এই ভূমিকার জন্য থিয়াও কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন।
মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন সোমবার জানিয়েছে যে তারা ফিফা এবং সিএএফ-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সেই সময়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
থিয়াওয়ের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে তা কেবল আফ্রিকান প্রতিযোগিতায় কার্যকর হবে নাকি ফিফা বিশ্বকাপে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জুন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেনেগালের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সমতায় থাকা ম্যাচের ইনজুরি টাইমের শুরুতে সেনেগালের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল করেন রেফারি। সেনেগাল শিবিরের মতে এটি ছিল শিরোপা জেতানো গোল। এর কয়েক মিনিট পরেই ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, কর্নার নেওয়ার সময় মরক্কোর তারকা ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজকে সেনেগালের ডিফেন্ডার টেনে নিচে ফেলে দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তটি সেনেগালের মনে এই ধারণা আরও প্রবল করে যে, ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাওয়া মরক্কোকে টুর্নামেন্টে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কোচ থিয়াও তার খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উৎসাহিত করেন যাতে দিয়াজ পেনাল্টি শটটি নিতে না পারেন। অন্যদিকে গ্যালারিতে সেনেগাল সমর্থকরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘এভাবে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের খেলায় সহিংসতা সহ্য করা যায় না। মাঠে বা মাঠের বাইরে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্তকে আমাদের সবসময় সম্মান করতে হবে। দলগুলোকে ফুটবলের নিয়ম মেনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।’
রাবাতে স্বাগতিক মরক্কোর ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় হারের পর তাদের কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, ‘আমরা আফ্রিকান ফুটবলের যে চিত্রটি তুলে ধরেছি তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে, এমন অবস্থায় ১০ মিনিটের বেশি খেলা বন্ধ রাখাটা মোটেও শোভনীয় নয়।’
লম্বা সময় পর মাঠে ফিরে দিয়াজ পেনাল্টি শট নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু তার দুর্বল ‘পানেনকা’ শটটি সহজেই রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক। রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার দিয়াজ সম্পর্কে রেগরাগুই বলেন, ‘পেনাল্টি নেওয়ার আগে সে অনেক সময় পেয়েছিল, যা তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করে থাকতে পারে। কিন্তু যা হয়ে গেছে তা তো আর বদলানো যাবে না। সে ওভাবেই শটটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে।’
এফএইচএম/