চ্যাম্পিয়নস লিগ : শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা কোন দলের কতটুকু?

ছয় সপ্তাহ বিরতির পর ফিরছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। লিগ পর্বের আর দুটি ম্যাচ বাকি। তারপর শীর্ষ আটে থাকা দলগুলো সরাসরি শেষ ষোলোতে খেলবে। আর নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে অফ খেলে নকআউট পর্বে সেই আট দলের সঙ্গে যোগ দেবে।
৩৬ দলের মধ্যে শেষ ১২ দল এবং প্লে-অফে হারা আট দল মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাবে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার প্রত্যেক দলের পয়েন্ট ও পরবর্তী প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে ১০ হাজার সিমুলেশনের মাধ্যমে বের করেছে- কোন কোন দলের শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনার হার কতখানি, আর কারা ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায়।
শীর্ষ আট- সরাসরি নকআউটের দৌড়ে এগিয়ে কারা
লিগ পর্বের টেবিলের শীর্ষে আর্সেনাল বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাদের প্রথম ছয় ম্যাচ থেকে সম্ভাব্য প্রতিটি পয়েন্টই তারা জিতেছে। সর্বোচ্চ ১৮ পয়েন্ট তাদের। তারা এখন নতুন ফরম্যাটে এক মৌসুমে লিগ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ জেতা প্রথম দল হওয়ার থেকে মাত্র দুই ম্যাচ দূরে। গত মৌসুমে লিভারপুল এমন অর্জনের খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল। প্রথম সাতটি ম্যাচ জেতার পর অষ্টম ম্যাচে তারা পিএসভির কাছে হেরে গিয়েছিল।
আর্সেনাল অন্যরকম ২০২৫-২৬ মৌসুম উপভোগ করছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের শতভাগ সাফল্যের হারের পাশাপাশি ২২ ম্যাচ শেষে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে তারা প্রিমিয়ার লিগ টেবিলেরও শীর্ষে রয়েছে।

যদি তারা সপ্তম ম্যাচে ইন্টার মিলানকে পরাস্ত করতে পারে, তবে মিকেল আর্তেতা আটটির মধ্যে আটটি ম্যাচ জিতেই লিগ পর্বের শীর্ষে থেকে শেষ করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হবেন। শেষ ম্যাচে তারা কাজাখস্তানের দুর্বল দল কাইরাতকে খেলবে ঘরের মাঠে। অপটা সুপারকম্পিউটারও তাদের লিগের শীর্ষে থেকে শেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আশাবাদী। লন্ডন ক্লাবটিকে তারা এর জন্য ৯৩.৯% সম্ভাবনা দিচ্ছে।
যদিও ইন্টার ও কাইরাতের কাছে বিশাল ব্যবধানে হারলে তাদের শীর্ষ আট থেকে ছিটকে পড়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব নয়, তবে সুপারকম্পিউটার তার সাম্প্রতিক ১০,০০০ সিমুলেশনের একটিতেও এমনটি ঘটতে দেখেনি; যেখানে আর্সেনাল ১০০% সিমুলেশনেই শেষ ১৬-তে উন্নীত হয়েছে।
শেষ ষোলোতে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য বাকি সাতটি দলের লড়াই আরও অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হবে। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ আর্সেনালের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা তাদের এ পর্যন্ত খেলা ছয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করেছে, যা তাদেরকে পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি এবং আতালান্তার মতো পেছনে থাকা দলগুলোর চেয়ে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। এই চারটি দলই জানুয়ারির পরেও ইউরোপীয় ফুটবলে টিকে থাকা নিশ্চিত করেছে। কারণ অন্তত প্লে-অফ স্পটে তাদের স্থান নিশ্চিত। তবে তারা সবাই সরাসরি শেষ ১৬-তে খেলার যোগ্যতা অর্জনের আশায় আছে।
পিএসজি (৮৩.০%), বায়ার্ন (৯৯.১%) এবং ম্যান সিটি (৮৯.৯%)—এই তিন দলকেই শীর্ষ আটে থাকার জন্য ৮০%-এর বেশি সম্ভাবনা দেওয়া হয়েছে, তবে আতালান্তার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা কিছুটা কম (৫৯.৯%)। যদিও সিরি আ-র এই ক্লাবটির পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোইস বর্তমানে শীর্ষ ২৪-এর বাইরে রয়েছে, তবুও তাদের প্রতিপক্ষরা প্লে-অফে ঢোকার চেষ্টা করবে এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে।
সপ্তম ম্যাচের আগে শীর্ষ আটের বাইরে থাকলেও অপটা সুপারকম্পিউটারের মতে লিভারপুল প্রথম থেকে অষ্টম স্থানের মধ্যে থেকে শেষ করার পঞ্চম সর্বোচ্চ সম্ভাবনাময় দল (৬৩.৪%)। তারা বুধবার অ্যাওয়ে ম্যাচে মার্শেইয়ের মুখোমুখি হবে এবং এরপর ২৮ জানুয়ারি কারাবাখকে আতিথ্য দেবে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বার্সেলোনা শীর্ষ আট থেকে দুই পয়েন্ট দূরে রয়েছে এবং সরাসরি শেষ ১৬-তে জায়গা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে তাদের বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্তত একটি জিততে হবে। যেখানে তাদের ম্যাচ স্লাভিয়া প্রাগ (অ্যাওয়ে) এবং কোপেনহেগেনের (হোম) বিপক্ষে। দুটি ম্যাচেই তাদের জয়ের পক্ষে বাজি ধরা যায়।

রেকর্ড সংখ্যক শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে টেবিলের সপ্তম স্থানে রয়েছে, তবে তারা তাদের শেষ দুই ম্যাচে মোনাকো (হোম) এবং বেনফিকার (অ্যাওয়ে) বিপক্ষে জিতে তাদের পিছু নেওয়া আটটি দলকে প্রতিহত করতে চাইবে, যারা তাদের থেকে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে রয়েছে।
মাদ্রিদের বর্তমানে শীর্ষ আটে যাওয়ার ৫৮.৩% সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে অপটা সুপারকম্পিউটার সিমুলেশনে বার্সেলোনা সফল হওয়ার (৪৮.৭%) চেয়ে ব্যর্থই হয়েছে বেশিবার (৫১.৩%)।
নবম থেকে ২৪তম- নকআউট প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা যাদের
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ পর্বে সেরা আটে শেষ করার জন্য ১৬ পয়েন্টই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এবার তেমন কিছু না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
১৫তম দল বার্সেলোনা শেষ দুটি ম্যাচ জিতলে ১৬ পয়েন্ট পাবে। আর এই পয়েন্ট দিয়ে তারা কেবল প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করতে পারে।
প্লে-অফে ওঠার দৌড়ে আছে পাঁচটি দল, যাদের ৬ ম্যাচে পয়েন্ট ৯- মার্শেই, জুভেন্টাস, গ্যালাতাসারেই, মোনাকো ও বেয়ার লেভারকুসেন। এখন তাদের শীর্ষ আটে পৌঁছানো বলতে গেলে অসম্ভব। আবার শেষ ১২ দল হিসেবে বাদ পড়ার তালিকাতেও তাদের থাকা বলা যায় অসম্ভব।
গত মৌসুমের পরাজিত ফাইনালিস্ট ইন্টারকেও সম্ভবত প্লে-অফ পার করতে হতে পারে, যদিও তারা বর্তমানে দুই ম্যাচ বাকি থাকতে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। তাদের সমস্যা হলো যে তারা (অন্তত অপটা পাওয়ার র্যাংকিং অনুযায়ী) বর্তমান বিশ্বের সেরা দল আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এবং এরপর অষ্টম ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে একটি কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। সেই ফিকশ্চারকে সম্ভাব্যভাবে শীর্ষ আটের লড়াইয়ে ‘উইনার-টেকস-অল’ লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
২৫তম থেকে ৩৬তম- এলিমিনেশনের শঙ্কায় কারা?
কাইরাত কিংবা ভিয়ারিয়ালের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্ব উতরে যাওয়া হবে মিরাকল। দুই দলই ছয় ম্যাচ থেকে মাত্র একটি পয়েন্ট পেয়েছে। তারা যদি প্লে-অফে জায়গা পেতে চায়, তাহলে শেষ দুটি ম্যাচ তো জিততেই হবে, পাশাপাশি অন্য ম্যাচগুলোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে অনুকূল ফল পেতে।

অপ্টা সুপারকম্পিউটার ১০ হাজার সিমুলেশনের পরও কাইরাতের প্লে-অফে থাকার সম্ভাবনা পায়নি।
ভিয়ারিয়াল ১০,০০০টি সিমুলেশনের মধ্যে মাত্র ১০টিতে অত্যন্ত অসম্ভব একটি প্লে-অফ স্থান অর্জন করতে পেরেছে; তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের নূন্যতম সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের আয়াক্স (হোম) এবং বায়ার লেভারকুসেন (অ্যাওয়ে)—উভয়কেই হারাতে হবে এবং আশা করতে হবে যে টেবিলের উপরে থাকা ১৩টি দল যেন তাদের লিগ পর্যায়ের অভিযানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
এছাড়া আমরা বোডো/গ্লিমট (১.৫%), আয়াক্স (২.৪%) বা স্লাভিয়া প্রাগকে (২.৬%) লিগ পর্ব পার হতে দেখার সম্ভাবনাও খুব কম। অন্যদিকে আইন্ত্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (১৭.৯%) এবং অ্যাথলেটিক ক্লাব (১৯.২%) হলো অন্য দুটি দল, যাদের লিগ পর্যায় থেকে প্লে-অফে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা ২০%-এরও কম।
এফএইচএম/