আর কোনো বিতর্ক চাই না : সাবিনা

সাফ প্রথমবারের মতো ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। অভিষেক আসরেই বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সাবিনা খাতুনের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ টানা দুই বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার ও নানা ঘটনার পরিক্রমায় জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ সাবিনা এখন ক্যাম্পেও ডাক পান না। বাটলারের ব্র্রাত্য সাবিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ ফুটসালে নতুন ইতিহাস গড়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নেওয়ার পরপরই মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার আরাফাত জোবায়েরকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকার।
টানা দুই সাফের পর ফুটসালেও চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। শিরোপা জয়ের অনুভূতি কেমন?
সাবিনা: অবশ্যই ভালো লাগছে। প্রথম আসরেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। এটা বিশেষ একটা অর্জন।
ভারতকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর ভুটানের বিপক্ষে ড্র। তারপর জয়রথ, টুর্নামেন্টের যাত্রা সামগ্রিকভাবে কেমন ছিল?
সাবিনা: সব কিছু মিলিয়ে ভালোই ছিল। মেয়েরা মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী ছিল। অধিনায়ক হিসেবে সবাইকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি সব সময়। অনেকেরই ফুটসাল ও জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় সুবিধাই হয়েছে।

আপনাদের সাফল্যে কোচিং স্টাফের ভূমিকা কেমন?
সাবিনা: ইরানি কোচ অত্যন্ত ভালো এবং উঁচু মানের। আমরা মাঠে খেললেও তার অনুশীলন, পরিকল্পনা ও কৌশল সব কিছুই কার্যকরী ছিল।
২০১৮ সালে এশিয়ান ফুটসালের বাছাই খেলেছিলেন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সাত বছর ফুটসালের কর্মকান্ড ছিল না। পুনরায় শুরুর পরই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ফুটসালের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
সাবিনা: নারী ফুটবলের মতো ফুটসালেও ভালো সম্ভাবনা ছিল এবং আছে। ২০১৮ সালে আমরা কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি, কিন্তু লড়াই করেছিলাম। এরপর আর জাতীয় দলে খেলা হয়নি। আমি, সুমাইয়া ব্যক্তিগতভাবে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলেছি ফুটসালের। এই শিরোপার পর ফুটসাল নিয়ে ফেডারেশনের কাজের সুযোগ অনেক বাড়ল। সাফে চ্যাম্পিয়ন আমরা, এশিয়ান পর্যায়েও খেলার চেষ্টা করতে পারি। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত খেলা, অনুশীলন। আশা করি ফুটসাল কমিটি সেটা করবে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবলে টানা দুই বার সাফ চ্যাম্পিয়ন আপনার নেতৃত্বে। আবার ফুটসালের প্রথম শিরোপার অধিনায়কও আপনি। নারী ফুটবলের ইতিহাস ও সাবিনা পরিপূরক...
সাবিনা: যখনই খেলি, দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার জন্য খেলি। আমার অধিনায়কত্বে নারী ফুটবলে সাফল্য এসেছে, এটা অবশ্যই গৌরব ও সম্মানের।
ফুটসাল চ্যাম্পিন হওয়ার পর ফেডারেশন কিংবা সরকারের কাছে কোনো চাওয়া আছে কি?
সাবিনা: না তেমন কোনো চাওয়া নেই। গত সাফের চ্যাম্পিয়নের বোনাসই তো এখনো পাইনি।
জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার আপনিসহ আরও কয়েকজন দলে ডাকেন-ই না। ফুটবল ও ফুটসালের মধ্যে পার্থক্যও অনেক। এরপরও আপনার পারফরম্যান্স ও সাফল্য বাটলারের প্রতি কোনো জবাব বা বার্তা আছে কিনা?
সাবিনা: আমি আমার খেলা খেলেছি, দেশের জন্য। তার প্রতি কোনো বার্তা বা উদ্দেশ্য আমার ছিল না, নেইও। সে তার মতো কাজ করেছে, আমি আমার খেলা খেলছি যখন যেখানে সুযোগ পাচ্ছি।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবার এশিয়া কাপে খেলবে। সেই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের ক্যাম্পে নেই। কোচের সঙ্গে বিদ্রোহের দ্বন্দ্বে ওই ইতিহাসের অংশ হতে পারছেন না। ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখন আবার আপনাদের এশিয়া কাপে দলে নেওয়া নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা চলছে। আপনার অভিমত কী?
সাবিনা: যারা এশিয়া কাপে যাচ্ছে, তাদের জন্য শুভ কামনা এবং গুড লাক। আমি চাই না কোনো বিতর্ক কিংবা সমস্যা হোক।
এখনো এশিয়া কাপের এক মাসের বেশি বাকি। সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলারকে দলে ট্রায়ালে আনা হচ্ছে। দল চূড়ান্ত করার আগে আপনাদেরও তো অন্তত ফিটনেস বা পারফরম্যান্স যাচাই করতে পারে!
সাবিনা: সেটা তার (বাটলার) ব্যাপার সে কীভাবে তার দল ঠিক করবে।
আপাতদৃষ্টিতে বাটলারের দলে আপনার ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। দেশের বাইরের লিগ, ফুটসালেরও নির্ধারিত সূচি নেই। আপনার ভবিষ্যত লক্ষ্য কী?
সাবিনা: কিছুক্ষণ আগে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিলাম। এখন টিমমেটদের সঙ্গে উদযাপন করব। এরপর সামনের দিন নিয়ে ভাবব।
এজেড/এফএইচএম
