টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে কী ভাবছে পাকিস্তান, সর্বশেষ যা জানা গেল

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়ার প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ জানিয়েছিল পিসিবি। নিজেরাও বয়কট করতে পারে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য বয়কটের ‘রাজনৈতিক, আইনি ও আর্থিক প্রভাব’ বিবেচনায় রেখে টুর্নামেন্ট বর্জনের বিকল্পও খোলা রেখেছে পিসিবি।
টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আপাতত গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি—শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ‘মেন ইন গ্রিন’ যদি এই দুটি ম্যাচে জয় পায়, তাহলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।
একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান যদি প্রথম দুই ম্যাচ জেতে, তাহলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।” তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী সোমবার। এর এক দিন আগেই লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হবে।

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ জানাতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে পিসিবি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়েও আইসিসিকে অবহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডটির। এক সূত্র জানায়, “বিশ্বকাপের সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।”
তবে পুরোপুরি বয়কটের পথে হাঁটা সহজ নয়। আইনি ও আর্থিক জটিলতার বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবির আইন উপদেষ্টারা সতর্ক করেছেন—বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে উচ্চমূল্যের ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে, কারণ সম্প্রচার–সংক্রান্ত বড় অঙ্কের চুক্তি রয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, “২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত ভারতের জিওস্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আইসিসির প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে, যার আয় সব সদস্য দেশের মধ্যে বণ্টন করা হয়। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে সম্প্রচারকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।”
এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান আইসিসির বিরুদ্ধে আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। সেক্ষেত্রে আইসিসি সেই নোটিশ পিসিবির কাছে পাঠাবে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতির প্রভাব পড়বে সব সদস্য দেশের বার্ষিক তহবিল বণ্টনের ওপর—এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এফআই