সাবেক ক্লাব রিয়ালকে হারিয়ে উদ্দাম উদযাপন, ক্ষমা চাইলেন মরিনিয়ো

হোসে মরিনিয়ো ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ এবং বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার একসময়ের গুরু। সাবেক ক্লাব ও শিষ্যকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হারের স্বাদ দিয়েছে বেনফিকা। যাদের দায়িত্বে আছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত মরিনিয়ো। পর্তুগিজ ক্লাবটিতে তার দায়িত্বের শুরুটা কিছুটা এলোমেলো হলেও, ধীরে ধীরে দলকে ছন্দে ফেরাচ্ছেন। রিয়ালকে ৪-২ গোলে হারানোর ম্যাচে উদ্দাম উদযাপনে মাতেন মরিনিয়ো। পরে অবশ্য এজন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।
গত বুধবার রাতে ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে বেশিরভাগ দলের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ। যেখানে খেলা গড়ায় প্রায় একশ মিনিট পর্যন্ত। ৯৮ মিনিটে গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিনের গোলে শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রেখেছে মরিনিয়োর শিষ্যরা। বেনফিকা শেষ (২৪তম) দল হিসেবে উঠেছে প্লে-অফে। ম্যাচ জিতলেও, শেষ গোলটি না হলে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় বেনফিকা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেত। ফলে ওই মুহূর্তটা ছিল মরিনিয়োর জন্য বিশেষ, তার আঙুলের ইশারায় গোলবার ছেড়ে গিয়ে সফল গোলরক্ষক ট্রুবিন।
রিয়ালের বিপক্ষে শেষ সময়ে ফ্রি-কিক পেয়েছিল বেনফিকা। কোচ মরিনিয়ো তখন ইশারা দিয়ে গোলরক্ষককে আক্রমণভাগে উঠে যেতে বলেন। সতীর্থের নেওয়া বাঁকানো ফ্রি-কিক আসতেই লাফিয়ে হেডে সেটিকে গোলে পরিণত করেন ট্রুবিন। শেষ মুহূর্তের ওই গোলের পর গ্যালারি ও মাঠে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। মরিনিয়োর কোচিং স্টাফ ও বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে ঢুকে পড়েন। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ মরিনিয়ো তখন আকাশে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে উদ্যাপন করতে থাকেন এবং দর্শকদের উদ্দেশে নানা অঙ্গভঙ্গি করেন। যা ঘটে তার সাবেক খেলোয়াড় ও রিয়াল কোচ আরবেলোয়ার ঠিক সামনে।
— UEFA Champions League (@ChampionsLeague) January 29, 2026
২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনিয়োর অধীনে খেলেছেন আরবেলোয়া। সেই সময়ে তিনি মরিনিয়োর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অন-ফিল্ড নেতা হয়ে ওঠেন। সাবেক শিষ্যের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো বলেন, ‘আমি যেভাবে উদ্যাপন করেছি, তার জন্য ক্ষমা চাই। কিন্তু আলভারো একজন ফুটবল-ম্যান, যে পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে। ওই মুহূর্তে আপনি ভুলে যান যে এটা রিয়াল মাদ্রিদ, বেঞ্চে বসে আছে আলভারো, আছে (মাদ্রিদ প্রতিনিধি) চেন্দো ও আপনার পরিচিত মানুষজন– সবকিছুই ভুলে যাবেন। এজন্য আমি ক্ষমা চেয়েছি।’

এর আগে আরবেলোয়া যখন রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে জাবি আলোনসোর জায়গায় কোচিংয়ের দায়িত্ব পান, তখন তাকে মরিনিয়োর মতো কেউ বলে মনে করা হচ্ছিল। তখন আরবেলোয়া বলেন, ‘হোসে মরিনিয়োর অধীনে কোচিং পাওয়া আমার জন্য ছিল গর্ব ও সম্মানের। তিনি আমাকে অনেক প্রভাবিত করেছেন… আমি যদি হোসে মরিনিয়ো হতে যাই, তাহলে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হব।’ এ ছাড়া সাবেক কোচের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার কাছ থেকে এমন প্রশংসা (কোচিং ক্যারিয়ারে সর্বকালের অন্যতম প্রিয় খেলোয়াড়) পাওয়া আমার জন্য সম্মানের। তিনি আমার কাছে শুধু একজন কোচের চেয়েও অনেক বেশি। তার কথা শুনে আমি আবেগাপ্লুত ও আনন্দিত হয়েছি। তিনি আমার বন্ধু।’
চলতি মৌসুমে বেনফিকার ইউরোপীয় অভিযান শুরু হয়েছিল টানা চার পরাজয়ের মাধ্যমে। এর ফলে মরিনিয়োর ওপর চাপ বাড়ে, বিশেষ করে পর্তুগিজ লিগের পয়েন্ট টেবিলে প্রতিদ্বন্দ্বী পোর্তো ও স্পোর্টিংয়ের পেছনে থাকায়। শেষ ৫ ম্যাচে অবশ্য অপরাজেয় রয়েছে তার দল। এ নিয়ে মরিনিয়ো বলছেন, ‘আমি এখন এমন এক পর্যায়ে আছি, যেখানে নিজের কথা কম ভাবি, আর খেলোয়াড় ও ক্লাবের কথা বেশি ভাবি।’
এএইচএস