সাকিবের ১৭, বাংলাদেশের টানা ১০— বিশ্বকাপের যত অদ্ভুত পরিসংখ্যান

সামান্য ব্যবধানে নির্ধারিত হওয়া ফাইনাল থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্য সব কীর্তি— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গড়ে তুলেছে নিজস্ব এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ২০২৬ আসর শুরু হওয়ার আগে, টুর্নামেন্টের চরম পর্যায় ও অবিস্মরণীয় সব মুহূর্তকে ধরে রাখা ২০টি অদ্ভুত ও তথ্যবহুল পরিসংখ্যানগুলো দেখে নেওয়া যাক:
২০ - ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে (বার্বাডোজ), জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া ও আর্শদীপ সিং ১৬ থেকে ২০তম ওভারের মধ্যে সম্মিলিতভাবে বাই বা লেগবাই বাদে মাত্র ২০ রান দিয়েছিলেন। অথচ তার ঠিক আগেই ১৫তম ওভারে ২৪ রান আসায় দক্ষিণ আফ্রিকার সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল ৩০ বলে ৩০ রান। তাদের এই দারুণ পারফরম্যান্সের মাহাত্ম্য কোথায় সেটি বুঝতে একটি তথ্য যথেষ্ট: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নকআউটের ২৭ ম্যাচ ও ৫৪টি ইনিংসের মধ্যে ডেথ ওভারে (১৬-২০ ওভার) ভারতীয় বোলারদের সেই ৪.০০ ইকোনমি রেটই এখন পর্যন্ত সেরা। প্রসঙ্গত, নকআউট ম্যাচগুলোতে এই ওভারগুলোতে গড় ইকোনমি রেট ৯.৯৬।
১৯ - টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ২০তম ওভারে সর্বোচ্চ ১৯ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি হয় ২০১৬ সালের ফাইনালে, ইডেন গার্ডেন্সে। সেই ম্যাচের নায়ক কে? অবশ্যই সেই নাম যাকে ভোলার উপায় নেই—কার্লোস ব্র্যাথওয়েট!
১৮ - ২০১২ সালে পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৩ রানের ইনিংসে ১৮টি বাউন্ডারি (১১টি চার ও ৭টি ছক্কা) মেরেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। অবশ্য এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড ক্রিস গেইলের ১১টি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে। সর্বোচ্চ চারের রেকর্ড হার্শেল গিবসের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪টি, ২০০৭ সালে।
১৭ - সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৭টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছেন, যা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এরপরই আছেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ এবং আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী (১৬টি করে)। সাকিব এবং রোহিত শর্মা একমাত্র খেলোয়াড় যারা প্রথম ৯টি আসরের প্রতিটিতেই খেলেছেন। জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ২০০৭ সালের উদ্বোধনী আসরে ছিলেন এবং ২০২৬ আসরেও খেলবেন।
১৬ বছর ৩৩৫ দিন - ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আয়ান আফজাল খান কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত হন। মোহাম্মদ আমির, রশিদ খান, আহমেদ শেহজাদ ও জর্জ ডকরেলও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিশ্বকাপ খেলেছেন।
১৫ - টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলো পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে ১৫ বার হারিয়েছে। ইংল্যান্ডকে দুইবার এবং জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে একবার করে- মোট চার জয়ে নেদারল্যান্ডস এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় 'জায়ান্ট কিলার'। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জয় বা ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের জয় অন্যতম স্মরণীয়।
১৪ - ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯০ রানের লক্ষ্য নেদারল্যান্ডসকে ১৪.২ ওভারের মধ্যে পার করতে হতো পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য। তারা মাত্র ১৩.৫ ওভারে সেই লক্ষ্য পূরণ করে ১৩.৯৫ রান রেটে, যা যেকোনো পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইনিংসে সর্বোচ্চ।
১৩ - বিশ্বকাপের একটি আসরে মাত্র ১১ বা ১২ জন খেলোয়াড় ব্যবহার করে টুর্নামেন্ট শেষ করার ঘটনা ঘটেছে ১৩ বার। পাকিস্তান (২০২১) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১৪) পুরো টুর্নামেন্টে একই একাদশ খেলিয়েছিল। ১২ জন খেলোয়াড় ব্যবহার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির আছে ইংল্যান্ড (২০১০), অস্ট্রেলিয়া (২০২১) ও ভারতের (২০২৪)।
১২ - পাকিস্তানের সাঈদ আজমল (বোলার) এবং কামরান আকমল (কিপার/ফিল্ডার) জুটি হিসেবে বিশ্বকাপে ১২টি ডিসমিসাল করেছেন। এর মধ্যে ১১টিই ছিল স্টাম্পিং, যা একটি অনন্য রেকর্ড।
১১ - টাই ম্যাচ বাদে মাত্র ১ রান বা শেষ বলে জয় পাওয়া ম্যাচের সংখ্যা ১১টি। ভারত এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি ম্যাচ জিতেছে, আর পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ৩ বার এমন পরাজয়ের শিকার।
১০ - টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম চার আসর মিলিয়ে টানা ১০টি ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ, যা টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম হারের রেকর্ড। বর্তমানে পাপুয়া নিউ গিনি টানা ৭টি ম্যাচ হেরে দ্বিতীয় স্থানে আছে।
৯ - ৯ জন খেলোয়াড় দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮ জন ২০১২ ও ২০১৬ আসরে চ্যাম্পিয়ন হন। রোহিত শর্মা ২০২৪ সালে এই তালিকায় সর্বশেষ সদস্য হিসেবে নাম লেখান। তার আগে ২০০৭ সালে শিরোপা জেতেন তিনি।
৮ - টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ জন বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন। এর মধ্যে প্যাট কামিন্স একমাত্র বোলার যিনি টানা দুটি ম্যাচে (২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে) এই কীর্তি গড়েন। কুর্টিস ক্যাম্ফার আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৪ বলে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।
৭ - বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৭টি জয় (২০০৭ সালের টাই সহ) যেকোনো একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অন্য কোনো দলের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড।
৬ - ২০০৭ সালে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে যুবরাজ সিংয়ের ৬টি ছক্কা আজও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আইকনিক মুহূর্ত। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও চারজন এই কীর্তি গড়লেও বিশ্বকাপে এটিই একমাত্র ঘটনা।
৫ - ৫ জন খেলোয়াড় দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছেন: ডার্ক ন্যানেস (নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়া), রুয়েলফ ফন ডার মারউই (নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকা), মার্ক চ্যাপম্যান (হংকং ও নিউজিল্যান্ড, কোরি অ্যান্ডারসন (নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র) এবং ডেভিড উইজ (দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া)।
৪ - ২০২৪ সালে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন তার ৪ ওভারের কোটার ৪টিই মেডেন করেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই একমাত্র ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি বিরল।
৩ - পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ৩ বার ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন বিরাট কোহলি। সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপে তার ৮টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার রয়েছে, যা টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
২ - গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ—উভয় ফরম্যাটের ফাইনালেই জয়সূচক রান করেছেন। ইতিহাসে তিনি ছাড়া আর কেউই সাদা বলের দুই ফরম্যাটের ফাইনালে জয়সূচক রান করেননি।
১ - ইউসুফ পাঠান একমাত্র ক্রিকেটার যার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে। ২০০৭ সালের প্রথম আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে অভিষিক্ত হন তিনি, নকআউট বা ফাইনালে অভিষেকের এটিই একমাত্র নজির।
এফএইচএম/