ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে যে ক্ষতি হবে

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশনকে ছাপিয়ে গেছে আরেকটি আলোচনা। তা হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই দুই দলের মহারণী ম্যাচটি ঠিকঠাক অনুষ্ঠিত হবে কি না। ফলে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে কলম্বোর আবহাওয়ার খবর। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচটি বেরসিক বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত খেলা না হলে ম্যাচটি রিজার্ভ ডে–তে যাওয়ারও সুযোগ নেই।
মূলত বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোর জন্য কোনো রিজার্ভ ডে নেই। যা কার্যকর হবে নকআউট পর্ব থেকে। ফলে বৃষ্টির কারণে কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পাবে। গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। বৃষ্টির কারণে খেলায় বিলম্ব হলে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিকে নিশ্চিত করতে হবে যে নির্ধারিত কাট-অফ সময় অনুসারে তা যেন রাত ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত ৬০ মিনিটের সময়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের জন্য দুই দলকেই অন্তত ৫ ওভার করে খেলতে হবে। অন্যথায় ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে। আইসিসির নিয়মের ১৬.২ ধারায় বলা হয়েছে– ‘প্রতিপক্ষের খেলতে অস্বীকৃতির কারণে কোনো দলকে জয়ী ঘোষণা করা না হলে, উভয় দল অন্তত পাঁচ ওভার করে ব্যাট করার সুযোগ না পেলে ম্যাচ “নো রেজাল্ট” ঘোষণা করা হবে।’
ন্যূনতম ৫ ওভারে খেলা না হলে বা ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে দুই দলকে সমান একটি করে পয়েন্ট ভাগ করে দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচের দুটিতেই জিতে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে ভারত (নেট রানরেটে এগিয়ে) ও পাকিস্তান দুইয়ে রয়েছে। এর সঙ্গে একটি পয়েন্ট যোগ হলে তাতে দুই দলেরই লাভ। ৫ পয়েন্ট পেলে ভারত-পাকিস্তান উভয়েই সুপার এইটে উঠে যাবে। একই গ্রুপে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে, সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডস চারে। আর নামিবিয়া ২ ম্যাচে কোনো জয় পায়নি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে বাকিদের সামনে সুপার এইটে ওঠার আর সুযোগ থাকবে না। কারণ তাদের কারও ৪ পয়েন্টের বেশি পাওয়ার সুযোগ নেই।
এই ম্যাচটি না হলে দর্শকদেরও ক্ষতি, উন্মাদনায় থাকা ক্রিকেটভক্তরা বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে গিয়েও ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। শুধু তারাই নন, বাণিজ্যিকভাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বড় আকারে। সম্প্রচার সংস্থাগুলো বিজ্ঞাপন আয়ে ধাক্কা খেতে পারে এবং ম্যাচ বাতিল হলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে টিকিটের অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। এই ম্যাচ সমর্থকদের ভেতর যথারীতি বাড়তি উন্মাদনা রয়েছে। মানুষের চাপে কলম্বোগামী বিমানের টিকিট এবং সেখানকার হোটেলের ভাড়াও কয়েক গুণ করে বেড়ে গেছে।

শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে ক্রমাগত নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় কলম্বোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। সন্ধ্যা ৬–৭টার মধ্যে ৫.১ মিলিমিটার এবং ৭টা ১০ মিনিটের পর বৃষ্টির পরিমাণ (৩.৮ মিলি) কমে আসতে পারে। এর আগে দুপুর ১টা থেকে ৭টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০-৬০ শতাংশ। অর্থাৎ, খেলা নির্ধারিত সময়ে হবে না কিংবা ম্যাচ সম্পন্ন হতে সম্ভাব্য সময়ের চেয়ে বেশি লাগতে পারে– তেমন প্রস্তুতি নিয়েই আসতে হবে সমর্থকদের।
এদিকে, প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রয়েছে অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত গ্রাউন্ড স্টাফ প্রোটোকল, যা কলম্বোর ভারী বর্ষণ সামাল দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুত রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে যেখানে কেবল পিচ ঢেকে রাখা হয়, সেখানে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পুরো খেলার মাঠ সুরক্ষিত রাখার মতো পর্যাপ্ত কভার রয়েছে। ফলে আউটফিল্ড শুরুতেই পানি শোষণ করে ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এ ছাড়া গ্রাউন্ড স্টাফরা একটি কভার থেকে আরেকটি কভারের দিকে পানি ঠেলে দেন, যতক্ষণ না তা সীমানার ড্রেনে পৌঁছে যায়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভারী বৃষ্টি থামার পর সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযোগী হয়ে ওঠে।
এএইচএস