‘খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলে সাড়া আসে দেরিতে, কখনোবা আসেই না’

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হেরেছে ওমান। জিম্বাবুয়ের কাছে ৮ উইকেটে, শ্রীলঙ্কার কাছে ১০৫ রানে ও আয়ারল্যান্ডের কাছে ৯৬ রানে হারে তারা। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। দুই দলই এরই মধ্যে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেছে।
ওমানের অধিনায়ক জাতিন্দর সিং বলেন, ‘আমরা প্রথম তিন ম্যাচই হেরেছি। এবারের বিশ্বকাপে দল হিসেবে আমরা ভালো খেলতে পারেনি। তবে শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।’
ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পাওয়ার তেমন কিছু নেই—সম্মান রক্ষার লড়াই ছাড়া। টানা ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়া শিবিরে যে হতাশা, সেটিকেই সুযোগ হিসেবে দেখছে ওমান। জাতিন্দরের ভাষায়, ‘তাদের হারানোর এটাই হয়তো সেরা সময়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছেলেরা মুখিয়ে আছে। টি-টোয়েন্টি হলো গতি আর মুহূর্তের খেলা। সেই মুহূর্তগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে যে কোনো দিন যে কাউকে হারানো সম্ভব। অস্ট্রেলিয়া এখন ভালো করছে না… তাদের হারানোর এটাই সেরা সময়।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের ছাপ রাখতে মুখিয়ে আছেন ওমানের ক্রিকেটাররা বলেও জানালেন দলটির অধিনায়ক। এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দলগত সমন্বয়ের ঘাটতি ও ধারাবাহিকতার অভাবের কথা। টানা হার এড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া, আর সেটিই ওমানের কাছে বড় সুযোগ বলে মনে করছেন জতিন্দর।
২০২৫ সালে ওমান খেলেছে মাত্র ১৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ও ৮টি ওয়ানডে—যা আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয় বলেই মনে করেন জতিন্দর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট শুরু হয়, বা আমাদের ক্রিকেটাররা যদি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পায়, তাহলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট না খেললে ব্যবধান তৈরি হবেই। অন্য দলগুলো নিয়মিত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে থাকে, আমাদের সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, ওমানে বিভিন্ন দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অনেক সময় দেরিতে সাড়া আসে, কখনোবা আসেই না। তাই নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট নিশ্চিত করতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত একবার দেখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ওমানের। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপের ঐ ম্যাচে ৩৯ রানে জিতেছিল অজিরা।
এফআই