ভারত এতটাই ভালো দল, সুবিধামতো পিচ বানানোর দরকার পড়ে না : গম্ভীর

টি-টোয়েন্টিতে আড়াইশোর ওপর স্কোর করা যেন অভ্যাস বানিয়ে ফেলছে ভারত। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেশ কিছু ম্যাচে আড়াইশোর বেশি রান করেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। অবশ্য সমালোচকদের অনেকের অভিযোগ, ভারতীয় দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা ভেবেই উইকেটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর।
বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের মতে, ভারতীয় দল এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের সুবিধামতো পিচ বানানোর দরকারই পড়ে না। গম্ভীরের বক্তব্য, বিতর্ক তৈরি করা এবং নজর কাড়ার জন্যই পিচের সমালোচনা করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের কোচ বলেন, “আমি এই বিষয়ের সঙ্গে একমত নই। আমরা কেন কোনো কিছু আলাদাভাবে তৈরি করতে যাব? সত্যি বলতে, ভারত এতটাই ভালো দল যে, আমরা এই ধরনের কিছু করার কথা ভাবতেও পারি না।”
এখানেই থামেননি গম্ভীর। মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেবল ঘরের মাঠেই নয়, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশেও ভারতীয় দল একইভাবে বড় রান করেছে। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানেও আমরা ২০০ রান করেছি। কিন্তু ভারতে ২০০ রান করলেই বলা হয়, পিচ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমার মনে হয় কিছু মানুষ শুধু বিতর্ক তৈরি করতে চায়। স্রেফ ভিউ আর টিআরপির জন্য দেওয়া এই ধরনের বক্তব্য ধর্তব্যের মধ্যেই আনাই উচিত নয়।”

গম্ভীর মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপে পিচ তৈরির বিষয়টি আইসিসি তদারকি করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নয়। তিনি বলেন, ‘‘ক্রিকেটারদের যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়াটাও কিন্তু দরকার। আমরা যে শুধু ভারতের উইকেটেই বড় রান করেছি তা নয়। আইসিসির যে কোনও প্রতিযোগিতায় উইকেট তৈরির দায়িত্ব তাদের, বিসিসিআই-এর নয়।”
কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের উদাহরণ টেনে গম্ভীর বলেন, ভারত ঘূর্ণি উইকেটেও বড় রান করেছিল। সেখানে অন্য দলগুলো লড়াই করতে হিমশিম খেয়েছে। গম্ভীর বলেন, “আমরা কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রায় ১৮০ রান করেছিলাম। বাকি দলগুলো ১৪০ রানের আশপাশে করছিল। আমরা পাকিস্তানকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিলাম। তখন কেউ পিচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।”
রান যে হচ্ছে, তাতে খুশি গম্ভীর। বলেন, “কেউ ১২০ রানের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে আসে না। সবাই হাই-স্কোরিং ম্যাচ দেখতে চায়। গোটা বিশ্বেই এখন এটা প্রবণতা।” টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও গম্ভীরের মাথায় রয়েছে লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা। তিনি চান ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের বাকি তিনটি সিরিজে দল ভালো খেলে ফাইনালে উঠুক।
এফআই