‘ফাইনাল খেলা ভারতের ডিএনএ–তে, আর পাকিস্তানের বিদায় নকআউটের আগে’

টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে উড়িয়ে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে তারা সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সর্বোচ্চ তৃতীয়বার শিরোপা জিতল। এ নিয়ে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালে তিনটি আইসিসি ইভেন্টে ভারত সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে। অন্যদিকে, তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কোনো চূড়ান্ত সাফল্য পায়নি, এমনকি হেরেছে এশিয়া কাপেও।
বিজ্ঞাপন
২০১৭ সালে শেষবার আইসিসি ইভেন্টে (চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। এর আগে ১৯৯২ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০০৯ সালে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিরোপা তো দূরের কথা, নকআউট পর্বে যেতেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা ছিটকে পড়ে সুপার এইট রাউন্ড থেকে। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বেই যাত্রা থেমেছিল বাবর-সালমান-শাহিনদের।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে যারপরনাই বিরক্ত দেশটির সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। নকআউট পর্বের আগেই তাদের বিদায় সহজাত এবং ভারতের ডিএনএ–তে ফাইনাল খেলা এবং শিরোপা জয় লেখা বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। স্বদেশি সংবাদকর্মীদের সামনে রশিদ লতিফ বলেন, ‘এমনকি (২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল) টস হেরেও তারা (ভারত) ২৫০ রান (২৫৫) করেছে। তাদের কেউ ধরতে পারবে না। তারা রাতারাতি ওই অবস্থানে যায়নি, শেষ ১০ বছর এটি তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। সর্বশেষ আইসিসি ইভেন্ট এবং এশিয়া কাপ দেখুন, ট্রফি জয় ভারতের ডিএনএ–তে আছে। আর আমাদের ডিএনএ–তে নকআউটের আগে হেরে বিদায়। তাদের ডিএনএ–তে লেখা ফাইনাল এবং জয়।’
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তান প্রথমবার আইসিসি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ১৯৯২ সালে, যখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে ইমরান খান দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরপর ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং তৃতীয় শিরোপা হিসেবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। আর পাকিস্তান শেষবার ফাইনাল খেলেছে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। যেখানে তাদের হারায় ইংল্যান্ড। এরপর থেকে আর কোনো আইসিসি ইভেন্টেই পাকিস্তান সেমিফাইনালও খেলতে পারেনি। এমনকি সাম্প্রতিক বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোয় বিদায় নিয়েছে নকআউট পর্বের আগেই।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে পাকিস্তানের বিদায়ের পর দলের সকল সদস্যকে ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জরিমানা করার কথা প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। এমনকি প্রতি ক্রিকেটারকেই ৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি গুনতে হবে বলেও শোনা যায়। ওই প্রসঙ্গে রশিদ জানান, ‘দুর্বল বোর্ডই এমন কিছু করবে। যখন আপনি কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, সেখানে সবকিছু লেখা থাকে। জরিমানা এবং পুরস্কারের বিষয়ও উল্লেখ থাকে সেখানে।’
বিজ্ঞাপন

এর আগে বিষয়টি নিয়ে পিসিবির সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের আরেক সাবেক অধিনায়ক ইউনিস খানও, ‘এটি (ক্রিকেটারদের জরিমানা) কি নিশ্চিত? যদি নিশ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে এটি সঠিক কাজ নয়। আগেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। ২০০৩ সালে যখন আমরা বিশ্বকাপ থেকে ফিরি, অধিনায়ক রশিদ লতিফ পিসিবি থেকে একটি বার্তা পান। যেখানে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি অর্ধেক কমানো এবং বাকিটা ভাতা হিসেবে দেওয়ার কথা জানানো হয়। দুয়েকজন ক্রিকেটার এর বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ায়।’
এএইচএস