বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে গেল মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকাশিত হয় রিপোর্টও। আর এই রিপোর্টের জেরে আজ ভেঙে দেওয়া হয়েছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ। আর এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
বিজ্ঞাপন
তবে এনএসসি কর্তৃক সেই গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টকে ত্রুটিপূর্ণ, মনগড়া ও আইনি ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নির্বাচিত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেই সঙ্গে তামিমের এডহক কমিটি অবৈধ দাবি করে আইসিসির হস্তক্ষেপ চান তিনি।
আজ এক জরুরি বিবৃতিতে এসব জানান বুলবুল।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরণের দুর্নীতি বা কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুলবুল। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ এবং ১৫টি ক্লাবের আপত্তি সংক্রান্ত সব বিষয় সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী কিছু সাবেক খেলোয়াড় বোর্ডকে অস্থিতিশীল করতে এই নির্বাচন ফিক্সিংয়ের গল্প সাজাচ্ছেন।
বিবৃতিতে তিনি জানান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার আইনি অধিকার এনএসসির নেই। এটি আইসিসির গঠনতন্ত্রের সরাসরি লঙ্ঘন।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত কথিত এডহক কমিটিকে তিনি সাংবিধানিক ক্যু হিসেবে অভিহিত করেছেন। সরকারের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কালো অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আইসিসির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বুলবুল সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এ ধরণের অস্থিতিশীলতা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় দলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানবে। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শিল্প উৎপাদন হ্রাসের এই কঠিন সময়ে ক্রিকেটে এমন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে।
বিবৃতি শেষে আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেকে বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করে বলেন, উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
এমএমএম/এসএইচ
