আল রায়ানে সেদিন ব্রাজিলের বিজয় উল্লাস করার কথা ছিল। আগের আসরের পরাজিত ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল তারা। অতিরিক্ত সময়ে গড়া ম্যাচের শেষ দিকে গোল হজম করে টাইব্রেকারে সেলেসাওদের ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোটদের কাছে হারের পর যেন নিজের শেষকৃত্য দেখতে পাচ্ছিলেন নেইমার।
বিজ্ঞাপন
গোলশূন্য স্কোরের পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচের গোল করেছিলেন নেইমার। কিন্তু শেষ দিকে তারা একটি গোল হজম করে। তাতে ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে নির্ধারণ হয়। প্রথম চারটি শটের দুটিতে গোল করতে ব্যর্থ তারা। ৪-২ গোলে হার মেনেছিল ব্রাজিল।
চতুর্থ শটে যখন মারকুইনহোস ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষকের ডানপাশের পোস্টে আঘাত করলেন তখন লুকা মদরিচরা বিজয় উৎসবে মেতেছিল। আকাশের দিকে চিত হয়ে শুয়ে মাথায় হাত নেইমারের। যখন উঠে দাঁড়ালেন তখন পা যেন বিষণ্নতায় নড়াতে পারছিলেন না। মারকুইনহোস মিস না করলে পঞ্চম শটটি নিতেন তিনি।
ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা এক ইউটিউব ভিডিওতে সান্তোসের সতীর্থদের উদ্দেশ্যে সেই অনুভূতির কথা বললেন, ‘আমার জীবনে, আমি সবসময় পঞ্চম পেনাল্টি নিয়েছি। পঞ্চম পেনাল্টি সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু তা হয়তো আসে না।’
বিজ্ঞাপন
ব্রাজিলের জার্সিতে প্রথম বড় ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল নেইমারের। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপেও খালি হাতে দেশে ফিরতে হলো তাকে। তিনি বললেন, ‘মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি। ম্যাচের পর আমরা হোটেলে গেলাম, মনে হচ্ছিল পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি ধীরে ধীরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন.... সবাই আপনার পাশ দিয়ে যাচ্ছে গম্ভীর মুখে। মুখ বাঁকা করে বলছে, ‘এত বাজে?’।’
নিজের শেষকৃত্য দেখার অনুভূতি হয়েছিল তার, ‘আমার শেষকৃত্য কেমন হবে সেটা যেন দেখে ফেললাম। ঈশ্বরের দিব্যি করে বলছি। একটা ছোট্ট ঘরে ছিলাম, সেখানে বসে ছিলাম। তারা আসছিল। আমার পরিবার আসল। আরও অনেকে আসল। সবার চোখগুলো লাল, কোনো শব্দ বলছে না। মনে হচ্ছিল আমি যেন কফিনে এবং সবাই বলছে, ‘বাহ, তুমি এখনো বেঁচে আছ, হ্যাঁ? ওইসময় এমন অনুভূতি হচ্ছিল।’
নেইমার আরেকবার ব্রাজিলকে শিরোপা এনে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু স্কোয়াডে জায়গা পেতেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাকে। বাঁ হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি পরেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
এফএইচএম/
