২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতেছিলেন রাশিয়ান জিমন্যাস্ট মার্গারিতা মামুন। তার বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজশাহীর সন্তান। প্রয়াত বাবার স্মরণে স্বর্ণজয়ী অলিম্পিয়ান আজ বাংলাদেশে এসেছেন। বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনের জিমনিশিয়ামে জিমন্যাস্টিক্স ভেন্যুতে এসেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পাঁচ বছর আগেও মার্গারিতা বাংলাদেশে এসেছিলেন। এবারের আগমনটি একেবারেই তার ব্যক্তিগত। রাজশাহীর দুর্গাপুরে জন্ম নেওয়া তার বাবা ১৯৮৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমান। ২০১৬ সালের আগস্টে রিও অলিম্পিকে মেয়ের স্বর্ণজয়ের মাত্র ছয় দিন পরই ৫২ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান তিনি।
একজন রুশ সাংবাদিক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মামুন এবার বাংলাদেশকে নিজের মতো করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সাংবাদিক বাংলাদেশে এসে একটি প্রামাণ্যচিত্র ধারণ করছেন। মার্গারিতা মামুন বলেন, 'চার বছর আগে (২০২১) আমার প্রথম সফরটি ছিল কূটনৈতিক ধরনের। আমাকে সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছিল। কিন্তু এবার আমি এসেছি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে, সংস্কৃতি জানতে এবং রাজশাহী ঘুরে দেখতে। এত বছর পর আমি এই সুন্দর দেশটিকে—আমার দ্বিতীয় মাতৃভূমিকে—আসলভাবে জানতে চাই।'
তিনি পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন এবং শৈশবে বাবার কাছ থেকে শোনা ঐতিহ্যগুলো নিজের চোখে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মার্গারিতার আগমনের ফলে ক্ষুদে জিমন্যাস্টরা অনুপ্রাণিত হয়। তাদের অনুশীলন দেখে ও সৌজন্য সাক্ষাত করে মামুন বলেন, 'প্রথমত, আমি এখানে তাদের অনুপ্রাণিত করতে ও সমর্থন দিতে এসেছি। বাংলাদেশে এখন শুধুমাত্র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস আছে, কিন্তু রিদমিক জিমন্যাস্টিকস যেখানে রিবন, বল, হুপ ও ক্লাব ব্যবহৃত হয় এখনও ফেডারেল পর্যায়ে নেই। এটি আমাদের এখানে গড়ে তুলতে হবে।'
মার্গারিতা রিও অলিম্পিক স্বর্ণ জিতেছেন এক দশক আগে। তিনি টোকিও ও বেইজিং অলিম্পিকের কভারেজ উপস্থাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি এক সন্তানের মা। তার ছয় বছরের ছেলে সাঁতার শেখে।
এইচজেএস
