মেলবোর্ন থেকে সিডনি, অলিম্পিক ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া

সময়টা ১৯৫৬, ভেন্যু মেলবোর্ন। অথবা ২০০০ সালের সেই ঝকঝকে সিডনি। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে অলিম্পিকের মশাল নিভেছে বহু আগে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কান পাতলে আজও যেন শোনা যায় সেই গগনবিদারী চিৎকার আর অ্যাথলেটদের নিঃশ্বাসের শব্দ। কেবল রেকর্ড বইয়ে নয়, সিডনির অলিম্পিক পার্ক কিংবা মেলবোর্নের শান্ত জলাশয়ের প্রতিটি পাথরে অস্ট্রেলিয়া খোদাই করে রেখেছে তাদের ক্রীড়া ইতিহাসের বীরত্বগাথা। আধুনিকতার ভিড়ে হারানো স্মৃতিকে কীভাবে পরম মমতায় আগলে রাখতে হয়, সেটার প্রমাণ রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।
বিজ্ঞাপন
পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মেলবোর্ন অলিম্পিকের স্মৃতি বাঁচিয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন থেকে খানিকটা দূরে বালারাত শহর। ঐতিহাসিক নিদর্শন ও খানিকটা ভ্রমণের জন্য সেখানে সফরে যাওয়া। সেখানকার পার্কের সামনে অলিম্পিকের পাঁচ গোলাকৃতি চিহ্ন দেখে দাঁড়াতে হলো। কাছে যেতেই দেখা মেলে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিকের রোইং ইভেন্ট। যা হয়েছিল বালারাতের এই জলাশয়ে। ঐ ডিসিপ্লিনে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের নাম দারুণভাবে খোদাই করা৷ আবার যারা পদক জিতেছেন, তাদের নাম রয়েছে আলাদাভাবে।
অলিম্পিকের মতোই প্যারা অলিম্পিয়ানদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়৷ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও প্যারা অলিম্পিয়ানরাও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেন এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনেন। তাই তাদেরও সমান সুযোগ সুবিধা এবং মর্যাদায় রয়েছে বোর্ড। আর বালারাত জলাশয়ের পাশেই প্যারা অলিম্পিক সেন্টার। সেখানে রয়েছে প্যারা অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পদকজয়ী একাধিক অ্যাথলেটের ছবির বোর্ড।

অস্ট্রেলিয়ায় অলিম্পিক বলতে সাম্প্রতিক সময়ে সিডনি অলিম্পিকের কথাই আসে। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম অলিম্পিক ১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডই ছিল অলিম্পিকের মূল ভেন্যু। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া জাদুঘরে ঐ অলিম্পিকের মশাল, মাসকট ও লোগোসহ নানা ইতিহাস সংরক্ষিত। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের লাইব্রেরিতে ১৯৫৬ সালের অলিম্পিক নিয়ে বইও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
১৮৯৬ সাল থেকে আধুনিক অলিম্পিকের যাত্রা শুরু। এখন পর্যন্ত প্রতি অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়া অংশগ্রহণ করেছে৷ অস্ট্রেলিয়া স্পোর্টিং নেশন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করছে তারা। দর্শনার্থীদের জানানোর জন্য সেটা স্পষ্টভাবে লেখাও আছে৷
২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকও ছিল বেশ সুন্দর, সাজানো-গোছানো। সিডনি অলিম্পিকের অধিকাংশ খেলা হয়েছে অলিম্পিক পার্কে। এই চত্বরে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, হকি, সাঁতারসহ ইনডোরে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টনের অসংখ্য ডিসিপ্লিনের ভেন্যু বিদ্যমান। সিডনি অলিম্পিক পার্ক যেন অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রীড়া হাব। প্রতিটি ভেন্যু বিশ্বমানের এবং অলিম্পিক চত্বরে প্রবেশের পর যে কারো মনে হবে এটাই খেলার প্রকৃত পরিবেশ। নেই কোনো কোলাহল, একেবারে সুস্থ ক্রীড়া পরিবেশ। বাংলাদেশেও ঢাকা স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে অনেক ভেন্যু। কিন্তু সেখানকার মার্কেট ও কোলাহলে খেলার পরিবেশই নেই।

২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়া প্রতি ব্যক্তির নাম খোদাই করা রয়েছে। ঐ অলিম্পিকে বাংলাদেশের হয়ে খেলা অ্যাথলেট জুই, সাঁতারু ডলির নাম যেমন রয়েছে, তেমনি ঐ গেমসে কাজ করা বাংলাদেশি প্রবাসী ভলান্টিয়ারদের নামও আছে। সিডনির অলিম্পিক পার্ক অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের বিশেষ এক জায়গা।
বিজ্ঞাপন
চলমান নারী এশিয়া কাপ ফুটবলের ফাইনালের ভেন্যুও অলিম্পিক পার্ক। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামের আনুষ্ঠানিক নাম টুর্নামেন্টের জন্য স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়া ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ সিডনিতে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ খেললেও ঐতিহাসিক অলিম্পিক পার্কে খেলতে পারেনি। ঋতুপর্ণারা খেলেছেন প্যারামাটাস্থ কমনওয়েলথ ব্যাংকে, যেটার নাম এই টুর্নামেন্টে ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়া।
এজেড/এমএমএম