দিরিয়াহ বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাংস্কৃতিক গন্তব্য

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বমানের আতিথেয়তার সমন্বয়ে যারা একটি অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য খুঁজছেন, সেই সব বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের দিরিয়াহ হতে পারে অন্যতম মনোমুগ্ধকর শহর। রিয়াদের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই শহরে উবার বা কারিমের মতো রাইড-শেয়ারিং অ্যাপে মাত্র ১৫–২০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব।
এই ঐতিহাসিক শহরটি প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের জন্মস্থান এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘আত-তুরাইফ’-এর আবাসস্থল। যেখানে রিয়াদ শহরটি আকাশচুম্বী ভবন, আধুনিক শপিং মল ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার জন্য পরিচিত, সেখানে দিরিয়াহ এক শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এখানে দর্শনার্থীরা ধীরস্থিরভাবে সময় কাটাতে পারেন এবং সৌদি আরবের ইতিহাস, প্রাচীন গল্পগাথা ও কারুশিল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারেন। সাংস্কৃতিক গভীরতা ও নান্দনিক পরিবেশের কারণে দিরিয়াহ ভ্রমণ পর্যটকদের এক সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা দেয়।
রিয়াদ ও ঢাকা রুটে বিমান চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিরিয়াহ এখন পর্যটকদের জন্য আরও সহজলভ্য। এ মৌসুমে চারটি বিশেষ ইভেন্ট শহরটিকে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করেছে, যা পরিবার, ইতিহাসপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার সুযোগ দিচ্ছে।
মিনজাল (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)
প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনের এক শান্ত আলয় যারা প্রকৃতির মাঝে প্রশান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য মিনজাল এক চমৎকার আশ্রয়স্থল। ‘দিরিয়াহ সিজন’-এর অংশ হিসেবে মিনজাল বিলাসবহুল ‘গ্ল্যাম্পিং’, তারাময় রাত, শিল্পকর্ম এবং লাইভ পারফরম্যান্সের এক অপূর্ব সমন্বয়। শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই পরিবেশ বাংলাদেশি পর্যটকদের সতেজতা দেবে। এখানে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘুরতে আসা যায় অথবা গ্ল্যাম্পিংয়ে রাত কাটিয়ে মরুভূমির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
আল-হুয়েইত (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)
কল্পনা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জগত ছোট শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আল-হুয়েইত এক দারুণ জায়গা। দিরিয়াহর আদ-দাহিয়াহ এলাকায় আয়োজিত এই ইভেন্টে ঐতিহ্যবাহী গল্পগাথাগুলো খেলার ছলে জীবন্ত হয়ে ওঠে। শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে ‘ইন্টারেক্টিভ প্লে এরিয়া’ ও সৃজনশীল কর্মশালা। নিরাপদ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে শিশুদের শেখার পাশাপাশি অভিভাবকরাও এই আনন্দঘন সময় উপভোগ করতে পারবেন।
হাল আল-কুসুর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)
সৌদি প্রাসাদ ও ইতিহাসের পথে এক যাত্রা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী পর্যটকদের জন্য ‘হাল আল-কুসুর’ দিরিয়াহর প্রাচীন প্রাসাদ এবং প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের সোনালী দিনগুলোর গল্প জীবন্ত করে তোলে। লাইভ পারফরম্যান্স ও সুন্দর প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা তৎকালীন সৌদি নেতৃত্ব, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলী সম্পর্কে জানতে পারেন। পরিবার, শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য এটি ইতিহাসকে জানার একটি বিশেষ সুযোগ।
লায়ালি আল-দিরিয়াহ (২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত)
আলো ও আভিজাত্যে ঘেরা মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা উৎসবমুখর সন্ধ্যা এবং উন্নত ডাইনিং অভিজ্ঞতার জন্য ‘লায়ালি আল-দিরিয়াহ’ এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণ। ইউনেস্কো স্বীকৃত আত-তুরাইফের পাশে দিরিয়াহর ঐতিহাসিক পামবাগানে এই আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই ইভেন্টে খোলা আকাশের নিচে চমৎকার ডিনার, নজরকাড়া আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করা যায়। এই অভিজাত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বন্ধু-বান্ধব বা দম্পতিদের জন্য আদর্শ।
কেন দিরিয়াহ বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত?
দিরিয়াহর মূল আকর্ষণ হলো বিশ্বমানের আতিথেয়তা এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের মিশেল। বাংলাদেশি পর্যটকরা এখানে এমন কিছু মূল্যবোধ খুঁজে পাবেন যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গেও মানানসই—যেমন শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন, উষ্ণ আতিথেয়তা এবং নিজ পরিচয়ে গর্ববোধ। শহরটি রিয়াদ থেকে খুব কাছে এবং পরিবারের সবার জন্য এখানে অসংখ্য বিনোদন ও ছবি তোলার মতো নান্দনিক স্পট রয়েছে।
সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে দিরিয়াহ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আধুনিক সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিলনস্থল। এ মৌসুমে দিরিয়াহ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত—যেখানে অতীতকে সম্মান জানানো হয় এবং বর্তমানকে উদযাপন করা হয়।
এমএন
