ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক জটিলতায় সৃষ্ট নানা রকম হয়রানি বন্ধ ও ৮ দফা দাবিতে আমরণ অনশনরত ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তিনি ওষুধ গ্রহণ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে অনশন শুরু করেন এই শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, রাত দেড়টার দিকে শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান সহপাঠীরা। তবে তাতে তিনি রাজি না হলে চিকিৎসক নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ আনা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় হাসনাতের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অবস্থান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিব আল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হাসনাত ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পরে। কিন্তু তবুও তিনি নিজ অবস্থান থেকে সরে যাননি। অ্যাম্বুলেন্স আসলেও তিনি হাসপাতালে যেতে রাজি হননি। শেষমেশ চিকিৎসক ডেকে আনতে হয়।

চিকিৎসক জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। যেকোনো মুহূর্তে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। কিছু মেডিসিন ও গ্লুকোজ গ্রহণের কথা বললেও হাসনাত ভাই সেগুলো সেবন করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

আরেক শিক্ষার্থী রিফাত রশিদ বলেন, রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন হাসনাত। কিছুদিন আগেই নিউরোলজি সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অসুস্থতাসহ সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যার জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষকে এর দায়ভার নিতে হবে।

এই শিক্ষার্থী বলেন, অনশনের ২০ ঘণ্টা পার হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কেন? একটি শতবর্ষী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন হয়রানি আমাদের জন্য কি লজ্জাজনক নয়?

হাসনাত আব্দুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি কিছুই গ্রহণ করব না। যতক্ষণ পর্যন্ত না উপাচার্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে দাবি পূরণে সময় বেঁধে দেয়। আমার শারীরিক অবনতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।

গত ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে আট দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন হাসনাত। সেসময় তিনি উপাচার্যকে  স্মারকলিপি এবং দাবি পূরণে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ফের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। আর আজ উপাচার্যের কাছ থেকে আশ্বাস না পেয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন।

এইচআর/এমএইচএস