মাদক ব্যবসার অভিযোগে ১৩ বার গ্রেফতার হয়ে জেল খাটলেও মাদক ব্যবসা ছাড়েননি মোনাফ আলী সরকার (৫২)। সোমবার (১০ মে) আবারও ছেলে মাহমুদ হাসান রকিসহ (২৮) আরও চার সহযোগীকে মাদকসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযানিক দল।

সোমবার (১০ মে) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ বোতলাগাড়ী গ্রামের মোনাফ আলী সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৪ বোতল ফেনসিডিল ও ৩২টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

বাবা-ছেলে ছাড়াও আটক সহযোগীরা হলেন- খোর্দ বোতলাগাড়ী গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে মো. সেলিম ওরফে রতন (২৫), বুচারীপাড়া গ্রামের মান্নান (১৯), টগরুপাড়া গ্রামের সোহাগ ইসলাম (২১) ও ছাইয়াপাড়া গ্রামের গোলাম রাব্বানী (২০)। আটক চার সহযোগী মোনাফ আলীর ছেলে রকির বন্ধু।

নীলফামারী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক খবির আহমেদ ও সৈয়দপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলজার রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলম উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মোনাফ আলী সরকার ও তার ছেলে মাহমুদ হাসান রকির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চার সহযোগীর প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫শ টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রমিজ আলম। গ্রেফতারদের নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মোনাফ আলী সরকার মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলায় আগে সৈয়দপুর থানায় ১৩ বার গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন। প্রতিবারই জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও তিনি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মো. খবির আহমেদ বলেন, মোনাফ আলী সরকার উত্তরাঞ্চলের একজন বড় মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘ দিন থেকে তিনি নীলফামারী-সৈয়দপুরসহ রংপুর ও দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট টাপেন্ডাডল পাইকারি সরবরাহ করেন।

মাহমুদ আল হাসান রাফিন/এসপি