টানা চারদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো শীত আর কুয়াশার দাপটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষদের।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, টানা চারদিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যার ফলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আগামী এক থেকে দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ সাময়িকভাবে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সে সময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জেলার সড়ক-মহাসড়ক, গ্রামগঞ্জ ও ফসলি জমি ঢেকে থাকছে সাদা চাদরে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যান ও রিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষরা। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় অনেকেই শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়ে কাজে বের হলেও কাজের সুযোগ মিলছে না তেমন।

ভোরে কাজের সন্ধানে আসা কয়েকজন দিনমজুর জানান, তীব্র শীতে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পেটের দায়ে কাজে বের হলেও গত কয়েকদিন ধরে তেমন কোনো কাজ পাচ্ছেন না তারা। ফলে সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

অপরদিকে শীতজনিত কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বয়স্ক রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও শিশু রোগীর চাপ কমেনি। ডায়রিয়া, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেলেও প্রতিদিন বহির্বিভাগে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও অন্যান্য শীতজনিত রোগে পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক শিশু ও বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

আফজালুল হক/আরকে