রাস্তার ইট তুলতে বাধা দেওয়ায় স্বামীসহ ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় এক নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর ওপরে হামলা এবং কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় রাজৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম (৫০)। তিনি বদরপাশা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
প্রধান অভিযুক্তরা হলেন, রাজৈর উপজেলার চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামের আলম মাতুব্বরের স্ত্রী কলি আক্তার (২১) ও বোন জামাই বক্কার বিশ্বাস (৪৫) এবং রাজৈর গোপালগঞ্জ গ্রামের লোকমান হাওলাদার (৪৫) ও তার ছেলে কাইয়ুম হাওলাদার (২২)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যায় কলি, বক্কার, লোকমান ও তার ছেলে কাইয়ুমসহ তাদের স্বজনরা। এসময় তাদের বাধা দিতে গেলে বদরপাশা ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম (৫০) ও তার স্বামী তোতা মাতুব্বরের ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তোতা মাতুব্বরের তিনটি আঙুল কেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়েও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে আহতদের চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা দেয় হামলাকারীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম বাদি হয়ে রাজৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে ইউপি সদস্যর স্বামী আহত তোতা মাতুব্বর বলেন, হামলাকারীদের রাম দায়ের কোপে আমার হাতের তিনটি আঙুল কেটে গেছে। হাসপাতালে গেলে সেখানেও আমাদের ওপরে তারা আবারও হামলা করে। পরে পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়। এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম বলেন, সরকারি টাকায় তৈরি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছিল কলিসহ তাদের লোকজন। এ সময় আমরা বাধা দেই। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে তারা দলবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমার স্বামীকে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আমাকেও মারধর করে। এছাড়া আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কিছু দিন আগে চাঁদা চেয়েছিল। না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সরকারের কাছে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও আমাদের উপর হামলার উপযুক্ত বিচার দাবি করি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মতামত জানার চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এছাড়া কাইয়ুম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাস্তার ইট তোলাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যর স্বামীকে মারধর ও জখমের ঘটনা ঘটেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ আহম্মেদ/আরকে