আলোচিত সেই এপিএস মোয়াজ্জেমের মনোনয়ন বাতিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মাগুরা-১ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া (কুটি) এবং গণফোরামের প্রার্থী মিজানুর রহমান।
মাগুরা-২ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিয়ার রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত মোয়াজ্জেম হোসেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার এপিএস থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ২১ এপ্রিল পদ হারান।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, মাগুরা-২ আসনের প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্রে ১০ জন ভোটারের শনাক্তকারীর স্বাক্ষরের মধ্যে একজন মৃত ব্যক্তির নামে স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় সাতজন ভোটার জানান, তারা মনোনয়নপত্রে কোনো স্বাক্ষর করেননি। একজন ভোটারকে ভোটার তালিকায় পাওয়া যায়নি এবং অপর একজন স্বাক্ষর করেছেন বলে নিশ্চিত করেন।
এ ছাড়া, মনোনয়নপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘মাস্টার্স পাস’ উল্লেখ করা হলেও দাখিল করেছেন কেবল স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) সনদ, যা মনোনয়ন বাতিলের অন্যতম কারণ বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ সময় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি পড়ে শোনান এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তাছিন জামান/এএমকে