ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৬টি আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি কর্পোরেশন) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী।

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আনোয়ার হোসেন বাবলু ও বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাশার, মো. জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) মো.আব্দুস ছালাম।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মো. আব্দুল বাছেত মারজান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার মুকিত আল মাহমুদ। 

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. কামরুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার শাহিদুল ইসলাম, এস এম শাহ্ জামান রওশন এবং তাকিয়া জাহান চৌধুরী।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রংপুর-৫ ও রংপুর-৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

এ সময় তিনি জানান, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হন ৪৪ জন।

এর মধ্যে রংপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন, রংপুর-২ আসনে ৫ জনের সবাই, রংপুর-৩ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন, রংপুর-৪ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন, রংপুর-৫ আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন এবং রংপুর-৬ আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, টানা তিন দিন রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই করা হলো। এ কার্যক্রমে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আমি আশা করবো প্রার্থীরা নির্বাচনী আচারণবিধি মেনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রংপুর-১ ও রংপুর-২ এবং শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রংপুর-৩ ও রংপুর-৪ আসনে প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।

জেলার ছয়টি আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন—রংপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মমিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মোকাররম হোসেন সুজন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফ খান সজিব ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আল মামুন। 

রংপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মো. আজিজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আশরাফ আলী।

রংপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আব্দুল কুদ্দুছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সামসুজ্জামান সামু, জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর রহমান বেলাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নূর আলম সিদ্দিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী।

রংপুর-৪ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেন।

রংপুর-৫ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. বাবুল আক্তার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. মমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. আবু হেলাল, জাতীয় পার্টির এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, নাগরিক ঐক্যর মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. গোলজার হোসেন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আনোয়ার হুসাইন।

রংপুর-৬ আসনে বিএনপির মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. নুরুল আমীন, জাতীয় পার্টির মো. নূর আলম মিয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মো. ছাদেকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র আবু জাফর মো. জাহিদ।

এদিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগমী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল দায়ের করতে পারবেন। এ আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে