বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম একজন কোটিপতি ব্যবসায়ী। তিনি বর্তমানে ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাকি ৯টির একক মালিক (প্রোপ্রাইটর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মীর শাহে আলম প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভার বানাইল এলাকায়। তিনি এমবিএ ডিগ্রিধারী। তার নির্বাচনী হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনী হলফনামায় মীর শাহে আলম উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩৮ ধারায় মোট পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় তিনি জামিনে আছেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বগুড়া, গাজীপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন ধারায় তার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে ১১টি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং দুটি মামলা খারিজ হয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের বার্ষিক আয় বিভিন্ন খাত থেকে আসে। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৯ হাজার ৬০ টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ৫৫ হাজার টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থান থেকে তিনি বছরে ভাড়া পান ৩৬ হাজার ২৬০ টাকা, আর তার নির্ভরশীলরা পান ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড থেকে তিনি বছরে সম্মানি হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পান, যেখানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মীর শাহে আলমের নামে নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পুঁজি এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৮ টাকা।

স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মীর শাহে আলমের নিজের নামে রয়েছে ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যা দান, উত্তরাধিকার ও উপহার সূত্রে পাওয়া এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার অর্জনকালীন মূল্য ৪৫ হাজার টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মোট মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৫ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৮ টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪৫ টাকা এবং ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৮ টাকা।

পৈত্রিক ও উত্তরাধিকার সূত্রে মীর শাহে আলমের মালিকানায় রয়েছে ১৮ দশমিক ১১ একর কৃষিজমি, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৬ শতাংশ কৃষিজমি, যার ক্রয়মূল্য ৪১ হাজার টাকা।

এছাড়া তার নামে রয়েছে ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ অকৃষি জমি, যার ক্রয়মূল্য ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় তার মালিকানায় রয়েছে ৯০০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট, যার ক্রয়কালীন মূল্য ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ২৪০ টাকা। বগুড়া বিআরটিসি মার্কেটে তার একটি ১৪৪ বর্গফুটের দোকান রয়েছে, যার মূল্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

ঢাকার মিরপুরে তার নামে রয়েছে ১১৫০ ও ১৪৫০ বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে দুটি দোকান ও শিবগঞ্জে একটি আবাসিক বাড়ি রয়েছে।

মীর শাহে আলমের স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২৪০ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা। তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, লংকা বাংলা ফাইন্যান্সের ঢাকা মিরপুর শাখা থেকে মীর শাহে আলম ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ১৪ টাকা হোম লোন গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক বড়গোলা শাখা, বগুড়া থেকে তার মালিকানাধীন মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন এবং মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশনের নামে ৫০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা একক ঋণ নেওয়া হয়েছে।

রোমা অটো রাইস মিলের নামে ৫০ লাখ টাকা এবং রুপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংক বড়গোলা শাখা থেকে যৌথ ঋণ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ব্যাংক বগুড়া শাখা থেকে রোমা অটো রাইস মিলের নামে আরও ৪ কোটি ৪০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা যৌথ ঋণ রয়েছে।

মীর শাহে আলম ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। সেখানে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২০ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮ হাজার ৩৭১ টাকা। তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৬ টাকা।
তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা, সম্পদের পরিমাণ ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং পরিশোধিত আয়কর ৩ হাজার টাকা। সন্তানের নামে দাখিল করা রিটার্নে আয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সম্পদের পরিমাণ ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং পরিশোধিত আয়কর ৭৫ হাজার টাকা।

আব্দুল মোমিন/আরকে