অর্থের অভাবে থেমে গেছে সেই আরিফার চিকিৎসা
খুলনা মহিলা কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফা জান্নাত আসফি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছে না তার পরিবার। গেল ৫ মাস বন্ধ রয়েছে তার চিকিৎসা। ফুরিয়ে গেছে ওষুধও।
আরিফা জান্নাত আসফির পরিবার জানায়, ‘স্যাক্রোলইটিস’ নামক একটি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আরিফা। গত চার বছর ধরে তিনি এ রোগে ভুগছেন। তিনি দেশে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও একাধিকবার চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় পুনরায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও আরিফা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। খুলনার সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ–৫ অর্জন করেন। অসুস্থতার কারণে বসে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাকে খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রে শুয়ে-বসেই পরীক্ষা দিতে হয়। দীর্ঘ সময় লেখার সময় হাত অবস হয়ে যেত, তবুও সীমিত সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরীক্ষাগুলো শেষ করেন তিনি।
দুই বোনের মধ্যে আরিফা বড়। তার বাবা আতিয়ার রহমান একজন আনসার সদস্য এবং মা সুলতানা পারভীন গৃহিণী। পরিবারটি খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। বর্তমানে আরিফার জীবন বিছানা কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে হাটা, বসা কিংবা দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
বিজ্ঞাপন
মেধাবী এই শিক্ষার্থী ২০১৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি ও ২০২৪ এসএসসিতে জিপিএ-৫ লাভ করেন। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিন সুস্থ থাকলেও পরে কোমরের তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে তার জটিল রোগ শনাক্ত হয়।
চিকিৎসকদের মতে, উন্নত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা ছাড়া তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন।
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার প্রয়োজন হলেও তা জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসা না হওয়ায় পড়াশোনায় যেমন ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি অনিশ্চয়তায় পড়ছে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উদ্যোগই পারে আরিফা জান্নাত আসফির চিকিৎসা নিশ্চিত করে তার থেমে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে আবার নতুন করে এগিয়ে নিতে।
আরিফার মা সুলতানা পারভীন বলেন, ঢাকা পোস্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরিফাকে নিয়ে নিউজ হওয়ার পর সমাজের অনেকেই এগিয়ে এসেছিল। আর্থিক সহযোগিতাও করেছিলেন। নিজেদের গোছানো এবং মানুষের সহযোগিতার সেই অর্থ দিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল আরিফাকে। এরপর সে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে অনেক অর্থের প্রয়োজন। তার ওষুধ বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। ছয় মাস অন্তর ভারত থেকে আনতে হয়। সেটিও আনা সম্ভব হচ্ছে না। গেল ৫ মাস ধরে অর্থের অভাবে আরিফার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ওষুধও ফুরিয়ে গেছে। অর্থের অভাবে ওষুধ কিনতে পারছি না।
কান্না জড়িত কণ্ঠে সুলতানা পারভীন বলেন, মেয়েটা চলাফেরাতো করতেই পারে না, এখন আবার ব্যথাও বেড়েছে। তার চিৎকার সহ্য করতে পারি না। আমার মেয়েটা খুবই মেধাবী। তার লেখাপড়া করার খুব সখ। সে ভালো ফলাফলও করেছে। যা আপনারা মিডিয়ায় প্রচার করেছেন। ওর স্বপ্ন যাতে ধুলিসাৎ হয়ে না যায়, সমাজের বৃত্তবানরা যেন এগিয়ে আসে সেই প্রত্যাশা করছি।
আরিফা জান্নাত আসফিয়াকে সহযোগিতা পাঠানো যাবে- সুলতানা পারভীন, হিসাব নম্বর- ০২০০০১৭৮৬৯৮৫৮, রাউটিং নম্বর- ০১০৪৭০৮২০, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, খুলনা ফরাজীপাড়া শাখা। এছাড়া বিকাশ ও নগদের মাধ্যমেও ০১৭২৪৪৫২১৯৩ সহযোগিতা পাঠানো যাবে।
মোহাম্মদ মিলন/এমএএস