টানা শীতে জবুথবু নোয়াখালী, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
প্রচণ্ড শীতের দাপটে বিপর্যস্ত নোয়াখালীর জনজীবন। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এই জেলার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্মহীনতা, ফলে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীতে গত কয়েকদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারপাশ। সূর্যের মুখ না দেখায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রিকশাচালক, দিনমজুর, জেলে ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে উপকূলীয় চর ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত না পৌঁছানোয় শীতবস্ত্রের অভাবে কাঁপছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।
বিজ্ঞাপন
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরবালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রচণ্ড শীতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকায় থাকি, তাই আমাদের দিকে তেমন কেউ তাকায় না। মানুষ খুব কষ্টে আছে, বলার ভাষা নেই। কাজ না থাকায় খাবার জোটানোই দায়। অনেকেই আছেন শীতের কাপড় না থাকায় রাতে ঘুমাতে পারেনা, কিন্তু কেউ একটা কম্বলও দেয়নি।
একই চিত্র হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। মিজানুর রহমান নামের সেখানকার বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন,নদীতে মাছ নেই, উপরে কাজ নেই। চারদিকে শুধু শীত আর শীত। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলে না। ঘরে খাবার নেই, গায়ে দেওয়ার কাপড় নেই। মানুষ খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত তিন দিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। টানা শীতের এই দুর্দিনে উপকূলীয় নোয়াখালীর নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে চাহিদার তুলনায় আরও বেশি শীতবস্ত্র প্রয়োজন। সমাজের স্বচ্ছল ও বিত্তবানরা যদি এগিয়ে এসে সামান্য উষ্ণতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে শীতে কষ্ট করা মানুষের উপকার হবে।
হাসিব আল আমিন/আরকে