পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দুটি বড় বাধা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, এর একটি হচ্ছে অর্থ ফেরতের নিরাপত্তা। এটা না থাকলে কোনো বিনিয়োগকারী বাজারে আসবে না। আরেকটি হচ্ছে আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের রিটার্ন দিতে না চাওয়ার মানসিকতা।

রোববার (৩০ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর মাসিক স্টেটমেন্ট প্রদানের সেবার উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আসার পরে (দায়িত্ব গ্রহণ) ২-৩টি ব্রোকারেজ হাউজে অনিয়মের ঘটনা দেখেছি। কাস্টমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা-পয়সা সরিয়ে ফেলা হয় ও বিভিন্ন রকম সফটওয়্যার ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করা হয়। এই জিনিসগুলো বন্ধ করার জন্য সিডিবিএলের মাসিক স্টেটমেন্ট দেওয়ার সেবাটি খুবই জরুরি। এর মাধ্যমে কাস্টমারদের সঙ্গে প্রতারণা কমবে। কারণ এখন থেকে ব্রোকারেজ হাউজ থেকে যে পোর্টফোলিও পাঠানো হয়, তার সঙ্গে সিডিবিএলের স্টেটমেন্ট মিলিয়ে নিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। যাতে ব্রোকারেজ হাউজে কোনোরকম প্রতারণার আশ্রয় নিলে, তা বিনিয়োগকারী বুঝতে পারবেন।

সিডিবিএলের মাসিক স্টেটমেন্ট সেবাটি গ্রহণের জন্য বিনিয়োগকারীদের ই-মেইল সঠিক হতে হবে। এছাড়া মোবাইল নাম্বার সঠিক হওয়াও জরুরি। কারণ এই দুটি জায়গায় অনেক চালাকি করা হয়। এরকম কাজ কারও মধ্যে দেখা দিলে আমাদেরকে জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা কোনো ধরনের প্রতারণা বা জালিয়াতির সুযোগ দিতে চাই না। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। এজন্যই দিনে দিনে কমিশন কঠোর হচ্ছে।

সিডিবিএল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা নিয়মিত বিনিয়োগকারীদেরকে স্টেটমেন্ট পাঠাবেন। এমনকি বিনিয়োগকারীরা যাতে নিজেরাই ঢুকে পোর্টফোলিও চেক করে নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করবেন। যাতে কোনো ব্রোকারেজ প্রতারণার আশ্রয় নিলে সঙ্গে সঙ্গেই ধরা পড়ে যায়।

যদি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অন্য কোনো উপায় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে সবসময় ব্রোকারেজ হাউজের মালিকদেরকে দোষারোপ করা যাবে না। কারণ অনেক সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। যেটা মালিকপক্ষ জানে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সিডিবিএলের আজকের মাসিক স্টেটমেন্টের মতো যত সার্ভিস চালু করা যাবে, পুঁজিবাজারের প্রতি তত বিশ্বাস তৈরি হবে। যেটা পুঁজিবাজারের জন্য খুবই জরুরি। 

তিনি বলেন, কোনো বিনিয়োগকারীর যদি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বা অন্যকোনোভাবে টাকা ও শেয়ার গায়েব হয়ে যায় এবং তা ফেরত না পাওয়া যায়, তাহলে আত্মসাতকারীকে যতই শাস্তি দেওয়া হোক না কেনো, তাতে প্রকৃতপক্ষে কোনো লাভ হবে না। তবে আত্মসাতের মতো অনিয়ম দূর করতে সিডিবিএলের মাসিক স্টেটমেন্ট দেওয়া সেবাটি কাজে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার আব্দুল হালিম, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শুভ্র কান্তি চৌধুরী, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআই/জেডএস