৪৩তম বিসিএসের আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ বুধবার (৩০ জুন)। এর আগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) করোনার কারণে কয়েক দফা সময়সীমা বৃদ্ধি করলেও এখন নতুন করে আর এই বিসিএসের আবেদনের সময় বাড়ানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহ্‌মদ বলেন, করোনার কারণে বেশ কয়েক দফা আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সেই হিসেবে বুধবার শেষ হচ্ছে ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের সময়। এই বিসিএসে এখন নতুন করে আবেদনের সময় বাড়ানোর চিন্তা পিএসসির নেই বলে জানান তিনি।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ বিসিএসে অংশ নেওয়ার জন্য ৪ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ জন প্রার্থী টাকা জমা দিয়ে আবেদন নিশ্চিত করেছেন। আরও অপেক্ষায় আছেন প্রায় ৩০০ জন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে তারা তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে পারবেন।

৪৩তম বিসিএসের আবেদন শুরু হয় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। এরপর প্রথম দফায় ২৭ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩১ মার্চ করা হয়েছিল আবেদনের শেষ দিন। পরে আবেদনের সময়সীমা আরেক দফা বাড়িয়ে ৩০ জুন করা হয়।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় যথাসময়ে ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে পিএসসি। করোনার টিকা আরও বেশি পরিমাণে দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হলেই এ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি।

সময় বেড়েছে দফায় দফায়

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত (সেমিস্টার) পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা সময়মতো না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন না। তাই আবেদনের সময়সীমা বাড়াতে পিএসসিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

সেই চিঠির প্রেক্ষিতে আবেদনের সময় ২ মাস বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। মার্চে করোনার ২য় ঢেউ শুরু হওয়ায় আরেকবার বাড়ানো হয় আবেদনের সময়সীমা। তখন ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩০ জুন করা হয় আবেদনের শেষ সময়।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন

৪৩তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা যাবে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর বণ্টন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০; ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব) এবং পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০, সাধারণ বিজ্ঞান ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ১৫, গাণিতিক যুক্তি ১৫, মানসিক দক্ষতা ১৫ এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনের ওপর ১০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

এনএম/এইচকে/জেএস