ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর গালে চড় মারার অভিযোগে আটক যুবক দেশটিতে একটি ক্লাব পরিচালনা করতেন। এই ক্লাবের সদস্যরা মধ্যযুগীয় তলোয়ার যুদ্ধ ও মার্শাল আর্টসে উৎসাহী। তবে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অতীতে কোনও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ম্যাক্রোঁকে চড় মারার ঘটনা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’টি সূত্র বুধবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, আটক যুবকের নাম ড্যামিয়েন ট্যারেল (২৮)। দক্ষিণ-পূর্ব সেন্ট-ভ্যালিয়ের শহরে বসবাস করেন তিনি। এই শহরে ট্যারেলের পরিচিতরা তাকে ঝামেলা সৃষ্টিকারী নন বলে বর্ণনা করেছেন।

সরকারি কর্মকর্তাকে হেনস্থার অভিযোগে ট্যারেলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। এর আগে, মঙ্গলবার ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভ্যালেন্স শহরের বাইরের টেইন-ই হারমিটেট এলাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও রেস্তোরাঁ কর্মীদের সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির লকডাউন প্রত্যাহার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

সরকারি এই সফরের সময় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে হাত মেলানোর সময় উঁচু প্রতিবন্ধকতার বিপরীত দিক থেকে এক যুবকের দিকে প্রেসিডেন্ট হাত বাড়িয়ে দিলে ওই যুবক ম্যাক্রোঁর গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন। পরে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ম্যাক্রোঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

ফরাসী গণমাধ্যম বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলবাহিনী। প্রেসিডেন্টকে থাপ্পড় মারার সময় ওই যুবক চিৎকার করে বলেন, ‘ম্যাক্রোঁবাদ নিপাত যাক।’

এই ঘটনা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ট্যারেলকে ‌‘মেজাজ হারিয়ে ফেলা’, ‌‘হালকা অসামাজিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

সূত্র বলছে, ট্যারেল এবং তার এক সহযোগী এখনও পুলিশি জিম্মায় আছেন। ফ্রান্সের আইনে সরকারি কর্মকর্তাকে হেনস্থার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে জানতে রয়টার্স ট্যারেলের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ট্যারেল স্থানীয় একটি ক্লাব পরিচালনা করতেন। ঐতিহ্যবাহী মধ্যযুগীয় তলোয়ার লড়াই এবং ঐতিহাসিক ইউরোপীয় মার্শাল আর্টসের চর্চা হতো এই ক্লাবে। এছাড়া দ্য নাইট অব দ্য স্কয়ার টেবিল নামে একটি বোর্ড গেইম ক্লাবে অর্থায়নও করতেন ট্যারেল।

ট্যারেলের বন্ধু অরিলিয়েন ল্যানিস বলেন, তিনি ট্যারেলকে প্রতিবেশীদের সহায়তা করার জন্য সদাপ্রস্তুত একজন ভদ্র-নম্র ব্যক্তি হিসাবে জানেন; যিনি নিজের পছন্দের বিষয় অন্যকে শেখাতে আগ্রহী। 

দেশটির রাজনীতিবিদরা প্রেসিডেন্টকে থাপ্পড়ের এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির কট্টর-বামপন্থী নেতা জিন-লুস মেলেনকন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, থাপ্পড়ের এই ঘটনায় তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।

২০১৬ সালে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন একবার ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সেই সময় শ্রম আইন সংস্কারের বিরুদ্ধে দেশটির কট্টর-বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের ডাকা ধর্মঘট থেকে ম্যাক্রোঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়।

এসএস