জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ড. আফজাল হোসেন খানের রচিত ‘ফাদার অব দ‌্য নেশন’ গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ পাওয়া যাচ্ছে জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম ‘অ‌্যামাজনে’।

রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও খ্যাতিমান বেশ কয়েকজন কবি-সাহিত্যিকের বাংলা সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। সেখানে নতুন সংযোগ আফজাল হোসেন খানের রচিত ‘ফাদার অব দ‌্য নেশন’ নামক গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ, যা লেখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে।

দীর্ঘ ৭ বছর নিরলস পরিশ্রম করে ড. খান রচনা করেন বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শ নিয়ে উপন্যাস ‘ফাদার অব দ্য নেশন’। ২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বইটির মোড়ক উন্মোচনের কথা থাকলেও নিরাপত্তার সমস্যা চিন্তা করে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আইনবিদ ড. কামাল হোসেন, সেক্টর কমান্ডার কে এম শফিউল্লাহ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

ড. আফজাল হোসেন খান গ্রিন ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ‌্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকশন বিভাগের শিক্ষক। তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তথ্য নিতে গিয়ে একে একে পেয়ে যান গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে রচিত চিঠিপত্র। সেগুলো সংগ্রহের নেশায় মেতে ওঠেন আফজাল হোসেন। তা নিয়েই ২০০৭ সালে প্রকাশ করেন ভাষণের প্রথম খণ্ড, একে একে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ খণ্ড প্রকাশ করেন।

আফজাল হোসেন বলেন, একজন কবি বা লেখক তার স্বপ্নের কথা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেন, আর একজন নেতা প্রকাশ করেন পথে, প্রান্তরে, ময়দানে, সবখানে ভাষণের মাধ্যমে। জ্বালাময়ী ভাষণের মাধ্যমেই একটি ঘুমন্ত নিষ্পেষিত জাতিকে তিনি জাগিয়েছেন স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হলেও তিনি বেঁচে আছেন বাঙালির সত্ত্বায়, তার নেতৃত্বে, তার কাজে সর্বোপরি তার জ্বালাময়ী ভাষণের মাধ্যমে। 

আফজাল হোসেন মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলো না শুনলে বা না পড়লে বঙ্গবন্ধুকে জানা যাবে না। তিনি তার স্বপ্নের কথা, সব দিক-নির্দেশনা ভাষণের মাধ্যমে বলে গেছেন। ড. খান নানাভাবে নানাস্থান থেকে ভাষণগুলো সংগ্রহ করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ‘ফাদার অব দ‌্য নেশন’ গ্রন্থের মাধ্যমে।

আফজাল হোসেন খান স্কুলে পড়াকালে ছড়া, কবিতা ও গল্প লিখতেন। স্কুল পাস করতেই প্রকাশিত হয় তার রচিত উপন্যাস ‘হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।’ পরে প্রকাশিত হয় ‘ঘর পালানো মেয়ে’, ‘শ্রাবনী’ সহ অসংখ্য উপন্যাস ও কবিতার বই ‘এই মেয়ে’। তাছাড়া জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘নজরুল জীবন কথা।’

তার গ্রন্থগুলো বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। তিনি হযরত সোলায়মান শাহর জীবনী নিয়ে লেখেন ‘দোহাই লেংটা’, এবং লিখেছেন ‘শেখ হবিবর রহমান সাহিত্য রত্ন ও তার অবদান’। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালেই তিনি নানাদিকে বিচরণ করেন সংগ্রহ করতে থাকেন বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও বিয়ের বৈচিত্র্যময় তথ্য, যা নিয়ে লিখেন ‘বিয়ে’ নামের একটি গ্রন্থ।

এসএসএইচ