বাংলাদেশে শিশু অধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা পোস্টের দুই জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকসহ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন ২২ জন। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ ২০০৫ সাল থেকে এ অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে।

সোমবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অভিজ্ঞ গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষাবিদসহ স্বাধীন বিচারকদের একটি প্যানেল প্রায় ৭০০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিজয়ীদের নির্বাচন করে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণে এবং শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নীতি-নির্ধারকদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস শিশু সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকেও স্বীকৃতি দেয়, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিশুদের জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয়ে শিশুদেরকে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্বের শিশুদের জন্য অর্জিত অগ্রগতি উদযাপনের পাশাপাশি যেসব কাজ এখনও বাকি আছে সেগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। চলমান মহামারি বাংলাদেশে শিশুদের অসমভাবে প্রভাবিত করেছে। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। এটি তাদেরকে বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও সহিংসতার ঝুঁকিতে ফেলেছে। একই সময়ে, জলবায়ু পরিবর্তন তাদের ভবিষ্যতকে অব্যাহতভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।

তবে আরও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে একত্রে কাজ করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যেতে পারে। দেশের অগ্রগতির কেন্দ্রে শিশুদের রাখার জন্য সরকার ও গণমাধ্যমসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

এই বছরের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীরা যে গল্পগুলোর অবতারণা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে করোনার কারণে অনাথ হওয়া শিশুদের কথা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে বসবাসকারী শিশুদের এবং পড়াশোনা থেকে বাদ পড়া শিশুদের কথা। তবে দারিদ্র্য, শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের কবলে পড়া শিশুদের ঘুরে দাঁড়ানোর অপ্রতিরোধ্য ও সাহসী গল্পও বর্ণিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশি শিশু ও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু– উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

এ বছরের আয়োজনে বিচারকদের একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আমি মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদেরকে অভিনন্দন জানাই। এ বছর অনেক শক্তিশালী প্রতিবেদন জমা পরেছিল এবং আগামী দিনগুলোতে আমরা আরও বেশি শিশু-সংবেদনশীল, নৈতিকতা সমৃদ্ধ রিপোর্টিং দেখতে পাবো বলে আশা রাখি।’

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় বাংলাদেশি গায়িকা পড়শী ইউনিসেফ নির্মিত মীনা অ্যানিমেটেড সিরিজের থিম সং গেয়ে শোনান। ‘মীনা’ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে একটি প্রিয় চরিত্র, যে ১৯৯৩ সাল থেকে আজ অবধি দেশ ও দেশের বাইরে শিশুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছে এবং বড়দের তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১-এর বিজয়ীরা

টেক্সট ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকা ট্রিবিউনের কহিনুর খৈয়াম, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এনটিভির মো. খায়রুল বাশার আশিক, যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন নিউজবাংলা টোয়েন্টফোর ডটকমের মো. বনি আমিন, ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের উম্মে মারজানা জুই।

ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরি প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক অধিকারের ইমরান হোসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর দীপু মালাকার ও মো. সাজিদ হোসেন। আর বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের প্রবীর দাস।

ভিডিও ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার একাত্তর টিভির নাদিয়া শারমিন, দ্বিতীয় পুরস্কার সময় টিভির মারজিয়া হাশমি মম এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জিটিভির ইসমাইল হোসেন জুয়েল।

বিশেষ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড টেক্সটভিত্তিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর সামছুর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের নিলিমা জাহান, ঢাকা পোস্টের আদনান রহমান ও জসিম উদ্দিন এবং বাংলা ট্রিবিউনের মো. শাহেদুল ইসলাম।

শিশুদের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড (১৮ বছরের নিচে) টেক্সট ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাফসান নিঝুম, দ্বিতীয় পুরস্কার প্রথম আলোয় প্রকাশিত লেখার জন্য মো. সাজ্জাদুর রহমান এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আজকের গোপালগঞ্জের পিয়াল সাহা।

এছাড়া ১৮ বছরের নিচে ভিডিও ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে এটিএন বাংলার আফরিন আক্তার, ফাহমিদা ফাইজা ও তাহমিনা ফ্লোরা।

মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১-এর বিচারকরা

রয়টার্সের ভিডিও সাংবাদিক এবিএম রফিকুর রহমান, পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী আবু নাসের সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধিকারকর্মী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া, অভিজ্ঞ ব্রডকাস্ট সাংবাদিক মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, রয়টার্সের প্রধান সংবাদদাতা (বাংলাদেশ) রুমা পাল, পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহনূর ওয়াহিদ।

ওএফ