রাত তখন ৯টা। হঠাৎ সোহাগের ফোনে কল করে তার এক বন্ধু জানায়, কল্যাণপুর নতুনবাজার বেলতলা বস্তিতে আগুন লেগেছে। সেখানে সোহাগের একটি দোকান আছে। আগুনের খবর শুনে সবুজ, জসিম, কামাল ও ফারুকসহ সোহাগের প্রায় ৩০ জন বন্ধু ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসেন। নেমে পড়েন আগুন নেভানোর কাজে।

ঢাকা পোস্টের এ প্রতিবেদককে সোহাগ জানান, বন্ধুর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখেন বস্তির ঘরগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে। চোখের সামনে একমাত্র আশ্রয়টুকু পুড়ে শেষ হতে দেখে বস্তিবাসীরা আহাজারি করছেন। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি সোহাগ। উপস্থিত বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেমে পড়েন আগুন নেভানোর কাজে।

জীবনের মায়া ত্যাগ করে পানি আর বালু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন আগুনের বিরুদ্ধে। কেউ পানি দিয়ে আবার কেউ বালু দিয়ে অসম এ লড়ায়ে নেমে পড়েন। জ্বলন্ত ঘরগুলো রক্ষা করতে না পারলেও তাদের চেষ্টায় আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায় ৬০ থেকে ৭০টি ঘর। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান তারা। 

রোববার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সোহাগ ও তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা হয় ঢাকা পোস্টের। সোহাগ বলেন, নতুনবাজার এলাকায় আমার একটি লেদারের দোকান রয়েছে। সেই সুবাদে এখানে আমার অনেক বন্ধু। প্রায় ৩০ জনের মতো। আমরা প্রায়ই এখানে আড্ডা দিই। বন্ধুদের মধ্যে কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী আবার কেউ শিক্ষার্থী।

‘এক বন্ধু ফোন করে জানায়, নতুনবাজার বেলতলা বস্তিতে আগুন লেগেছে। যেহেতু আমার দোকানটি নতুনবাজার এলাকায় তাই দ্রুত এখানে পৌঁছাই। খবর শুনে বাকি বন্ধুরাও চলে আসে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলছে। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হচ্ছে বস্তির ঘরগুলো। তা দেখে আহাজারি করছে নিরুপায় মানুষগুলো। তখনও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি।

ওই সময় বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিই, আমরা যতটুকু পারি আগুন নেভানোর চেষ্টা করব। আমরা যে যেভাবে পারি, কেউ পানি, কেউ-বা বালু নিয়ে বস্তির ভেতরে ঢুকে পড়ি। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি।’

সোহাগ বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যেন আগুন ছড়িয়ে না পড়ে। এরই মধ্যে অর্থাৎ ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর আমরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি।

‘আমাদের চেষ্টায় অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি কাঁচাঘর আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে’— দাবি সোহাগের।

রোববার (২০ মার্চ) রাত ৯টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বস্তিতে আগুন লাগার খবর পান। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট। তাদের প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই পুড়ে ছাই হয় ১৫০ থেকে ২০০টি কাঁচাঘর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাসেল ফারুক জানান, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তবে আগুন খুবই ভয়াবহ ছিল। বস্তির দুই-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জেইউ/এমএসি/এসএসএইচ