বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের আকাশ শোকাচ্ছন্ন। নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছড়ার ছন্দে, শিশুমনের হাসিতে, লোকজ জীবনের প্রাণস্পন্দনে যিনি সারাজীবন বেঁচে ছিলেন—সেই সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ২ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নিজ গ্রামে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ ৮৮ বছরের জীবনে তিনি যা রেখে গেছেন, তা কেবল সাহিত্য নয়—তা আমাদের জাতিস্মৃতির, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক অমূল্য ভান্ডার। সুকুমার বড়ুয়ার বিদায় মানে কেবল একজন ছড়াকারের প্রস্থান নয়; এটি এক মানবিক জীবনদর্শনের, নীরব সাধকের, গভীরভাবে দায়িত্বশীল শিল্পমানসের অবসান।

শৈশবেই যে জীবন তাকে প্রস্তুত করেছিল

সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার বিনাজুরি গ্রামে। পিতা সর্বানন্দ বড়ুয়া ও মাতা কিরণ বালা বড়ুয়ার সংসারে জন্ম নেওয়া এই শিশুর শৈশব খুব অল্প সময়েই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তর তার জীবনে বয়ে আনে এক গভীর ক্ষত।

সেই দুর্ভিক্ষের সময় পিতা সর্বানন্দ বড়ুয়া নিখোঁজ হন—আর কখনো ফিরে আসেননি। পিতৃহীন এই শিশুকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার লড়াইয়ে নামেন মা কিরণ বালা বড়ুয়া। অনাহার, অনিশ্চয়তা আর চরম অভাব—এই তিনের মধ্যেই গড়ে ওঠে সুকুমার বড়ুয়ার শৈশব। এই শৈশব তাকে কখনো নিষ্ঠুর করেনি; বরং করে তুলেছিল সংবেদনশীল, বিনয়ী ও গভীর মানবিক।

শিক্ষার ক্ষুধা ছিল, সুযোগ ছিল না

দারিদ্র্যের মাঝেও সুকুমার বড়ুয়ার মেধা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্কুলজীবনে একবার পরিদর্শনে আসা এক ইন্সপেক্টরের সামনে মানসাঙ্ক পরীক্ষায় ‘এগারো হাজার এগারো’ সংখ্যাকে ১১ দিয়ে ভাগ করে তিনি অনায়াসে সঠিক উত্তর দেন। উপস্থিত সবাই বিস্মিত হন। কিন্তু দারিদ্র্য ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথ দীর্ঘ হয়নি।

নিজেই বহুবার অকপটে বলেছেন—“আমি মাত্র আড়াই ক্লাস পর্যন্ত পড়েছি।” এই আড়াই ক্লাসই ছিল তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। বাকিটা তিনি শিখেছেন জীবন থেকে, মানুষের কাছ থেকে, লোকজ সংস্কৃতির বুক থেকে। এই স্বশিক্ষাই তাকে গড়ে তুলেছিল এক অনন্য পণ্ডিতে, যার জ্ঞানভাণ্ডারের গভীরতা প্রাতিষ্ঠানিক সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।

তিন টাকার বেতন, অগাধ স্বপ্ন

১৯৫০ সালের ১ জুন। মাত্র বারো বছর বয়সে শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন সুকুমার বড়ুয়া। চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ নালাপাড়ায় বাবু মনোমোহন তালুকদারের বাড়িতে প্রথম চাকরি পান। মাসিক বেতন ছিল মাত্র তিন টাকা। ১৯৫২ সালে তিনি চলে যান ভৈরব বাজারে। সেখানে রান্নার কাজ করে মাসে পাঁচ টাকা আয় করতেন।

ছোট শরীরে বড় দায়িত্ব, তবু তার ভেতরের কল্পনাশক্তি, ছন্দবোধ আর শব্দের খেলাধুলা কখনো থেমে থাকেনি। এই কঠিন দিনগুলোতেই তিনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছিলেন সরল মানুষের জীবনযাপনের, যা পরবর্তীতে তার ছড়ার অমূল্য উপাদানে পরিণত হয়। প্রতিটি শ্রমের মুহূর্ত যেন হয়ে উঠছিল জীবন ও সাহিত্যের পাঠশালা।

ঢাকায় সুকুমার

১৯৬২ সালে তার জীবনে আসে এক নতুন অধ্যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ৬৪ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি পান। পুষ্টিভবনে ‘সহকারী স্টোর কিপার’ হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনই তার সাহিত্যচর্চা আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়। ঢাকার সাহিত্যিক পরিবেশ, সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান তাকে প্রেরণা জুগিয়েছে।

নিজেই বহুবার অকপটে বলেছেন—“আমি মাত্র আড়াই ক্লাস পর্যন্ত পড়েছি।” এই আড়াই ক্লাসই ছিল তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। বাকিটা তিনি শিখেছেন জীবন থেকে, মানুষের কাছ থেকে, লোকজ সংস্কৃতির বুক থেকে। এই স্বশিক্ষাই তাকে গড়ে তুলেছিল এক অনন্য পণ্ডিতে, যার জ্ঞানভাণ্ডারের গভীরতা প্রাতিষ্ঠানিক সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।

১৯৬৪ সালে ননী বালা বড়ুয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় চার সন্তান—তিন কন্যা চন্দনা বড়ুয়া, রঞ্জনা বড়ুয়া ও অঞ্জনা বড়ুয়া এবং এক পুত্র অরূপ রতন বড়ুয়া। নীরবে, প্রচারবিমুখ থেকে সংসার, চাকরি ও সাহিত্য—এই তিনকে একসঙ্গে বহন করেছেন তিনি। এটা ছিল এক নীরব সাধনা, যেখানে দায়িত্ব ও সৃষ্টিশীলতা পাশাপাশি হেঁটেছে।

ছড়ার জগতে আলোর নাচন

৩ জুলাই ১৯৫৮। দৈনিক সংবাদের ‘খেলাঘর’ পাতায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম ছড়া ‘বৃষ্টি নেমে আয়’। এই ছড়াটি তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করে। এই প্রকাশনার মধ্য দিয়েই শিশুসাহিত্যে শুরু হয় এক নতুন কণ্ঠস্বরের যাত্রা—যেখানে ছিল লোকজ ছন্দ, গ্রামীণ খেলাধুলা, ধাঁধা, হেঁয়ালি, মনসার পুঁথি ও ভেলুয়ার পুঁথির স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। তার ছড়ায় শহুরে আধুনিকতার চাপাচাপি ছিল না, ছিল মাটি ও মানুষের গন্ধ। এই সহজিয়াভাবই তাকে শিশুদের হৃদয়ে সরাসরি পৌঁছে দিত।

সৃষ্টির ভাণ্ডার: শিশুমনের আনন্দ

‘পাগলাঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘ছড়া সমগ্র’—এসব গ্রন্থে সুকুমার বড়ুয়া শিশুমনের আনন্দ, কৌতুক ও জীবনবোধকে অনন্যভাবে তুলে ধরেছেন। তার ছড়া ছিল সহজ, স্বাভাবিক, কৃত্রিমতাহীন। ভারী উপদেশ নয়, বরং হাসির ফাঁকে ফাঁকে জীবনের পাঠ।

শিশুর চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীরই ছিল তার ছড়ার প্রধান শক্তি। তিনি শিশুকে শুধু পাঠক হিসেবেই নয়, একজন সমান অংশীদার হিসেবেই দেখতেন। তাঁর লেখায় শিশুর নিজস্ব চিন্তা, আবেগ ও কল্পনার প্রতি ছিল গভীর শ্রদ্ধা।

স্বীকৃতি: শিশুর চোখে আনন্দ দেখা

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু জাতীয় সম্মাননা তিনি পেয়েছেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন—শিশুর মুখে নিজের ছড়া শোনা, তাদের চোখে আনন্দ দেখা—এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কিছু নেই। তিনি পুরস্কার ও সুনামের চেয়ে সৃষ্টিকেই বড় করে দেখতেন। তার জীবন দর্শন ছিল সাদামাটা, কিন্তু দর্শনে ছিল গভীরতা। এই নিষ্ঠাবান শিল্পী সমাজ থেকে দূরে থেকেও সমাজের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন রচনার মাধ্যমে।

লোক ঐতিহ্যের ধারক

মনসার পুঁথি, ভেলুয়ার পুঁথি, গ্রামীণ ছন্দ ও লোকজ খেলাধুলা তার সৃষ্টির গভীর ভিত রচনা করেছে। ছোটবেলায় যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘হাসিখুশি’ মুখস্থ করেছিলেন। এই লোক ঐতিহ্যই তাকে বানিয়েছে এক স্বতন্ত্র ছড়াকার।

তিনি লোকসাহিত্যের রসকে আধুনিক শিশুসাহিত্যের ক্যানভাসে এমন নৈপুণ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, তা হয়ে উঠেছে চিরায়ত। তিনি ছিলেন এক সাঁজোয়া সেতু, যিনি বাংলার প্রাচীন লোক ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বহন করে এনেছেন।

শিশুমনের খাঁটি বন্ধু

যিনি নিজে শিশুশ্রমিক ছিলেন, তিনিই হয়ে উঠেছিলেন শিশুমনের সবচেয়ে আপন বন্ধু। দারিদ্র্য, পিতৃহীনতা ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাকে শিশুদের ব্যথা, আনন্দ ও স্বপ্ন গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি শিশুর মনে উপদেশ ঢুকিয়ে দিতেন না, বরং শিশুর মতো করেই দেখতে শেখাতেন পৃথিবীকে। তার লেখায় শিশুর আত্মিক স্বাধীনতার প্রতি ছিল অগাধ আস্থা।

এক তরুণ প্রজন্মের পাথেয়

সুকুমার বড়ুয়ার জীবন ও কর্ম তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য পাথেয়। যারা সাহিত্যচর্চায় নিয়োজিত, বিশেষ করে যারা ছড়া রচনায় আগ্রহী, তাদের অবশ্যই তার জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্ম গভীরভাবে পড়া ও অধ্যয়ন করা উচিত। কারণ, তিনি শুধু ছড়া লেখেননি, তিনি জীবনবোধ, সংগ্রামী দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিঃশব্দ সাধনার মডেল তৈরি করে গেছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব তাকে আটকাতে পারেনি, বরং জীবনকে পাঠশালা বানিয়ে তিনি যে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, তা যেকোনো উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আজকের যুগে যখন সহজ সাফল্যের মোহ আমাদের ঘিরে রাখে, সুকুমার বড়ুয়ার ধৈর্য, নিরলস শ্রম ও সৃষ্টির প্রতি নিষ্ঠা তরুণদের পথ দেখাতে পারে।

শিশু-কিশোরদের সামনে তাকে তুলে ধরা

আমাদের উচিত শিশু-কিশোরদের সামনে সুকুমার বড়ুয়াকে সঠিকভাবে তুলে ধরা। স্কুল-কলেজে তার স্মরণে আলোচনা সভা, ছড়া আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। কারণ তিনি শুধু একজন লেখক নন, একজন জীবনযোদ্ধা, যার সংগ্রাম যেকোনো শিশুকে নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল থাকতে শেখাবে। গ্রন্থাগারগুলোয় তার বইয়ের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে হবে এবং ডিজিটাল প্লাটফর্মে তার রচনা সহজলভ্য করে তুলতে হবে।

আড়ালে থেকে যাওয়া

দুঃখজনক সত্য—সুকুমার বড়ুয়া এবং তার ছড়ার বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে গেছে। তিনি নিজেও ছিলেন নীরব, প্রচারবিমুখ, নিজের গ্রামেই নিবিড়ভাবে থাকা এক সাধক মানুষ। কিন্তু এই আড়াল যদি থেকে যায়, তবে তা হবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি।

দায়িত্ব আমাদেরই

তিনি ছিলেন নীরবে তার গ্রামে—আর আমাদের প্রত্যাশা, সুকুমার বড়ুয়া ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের চৌষট্টি হাজার গ্রামে। কিন্তু কীভাবে হবে তা? এই দায়িত্ব কে বা কারা কাঁধে তুলে নেবে? এই প্রশ্ন আমাদের সবার সামনে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যম, রাষ্ট্র—সবাই মিলে এই দায় নিতে হবে।

...তার জীবন দর্শন ছিল সাদামাটা, কিন্তু দর্শনে ছিল গভীরতা। এই নিষ্ঠাবান শিল্পী সমাজ থেকে দূরে থেকেও সমাজের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন রচনার মাধ্যমে।

কারণ বাংলাদেশের ছড়াকারদের অনুপ্রেরণার নাম সুকুমার বড়ুয়া। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আমরা সবাই তার কাছে ঋণী। সেই ঋণ শোধ করার একটি নৈতিক দায় আমাদের আছে। সেই দায় কাঁধে নিতেই হবে। তার জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে।

রেখে যাওয়া অমূল্য উত্তরাধিকার

তিনি রেখে গেলেন হাজারও ছড়া—বাংলা ভাষার অমূল্য সম্পদ। রেখে গেলেন জীবনসংগ্রাম ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার প্রতিটি ছড়া যেন মাটির গন্ধমাখা ফসল, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা যায়। তিনি রেখে গেছেন এক আদর্শ, যেখানে সততা, নিরলস পরিশ্রম এবং শিল্পের প্রতি নিবেদন প্রধান ছিল। এই উত্তরাধিকার রক্ষা করাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।

বিদায়, ছড়ার যাদুকর

সুকুমার বড়ুয়া চলে গেলেন। কিন্তু তার ছড়া থাকবে শিশুদের কণ্ঠে, খেলার মাঠে, স্বপ্নের ভেতরে। বাংলা ভাষার সাথে তিনি থাকবেন, থেকে যাবেন। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন—আমাদের সুকুমার বড়ুয়া। তার ছড়ার ঝংকারে প্রতিদিন সকাল হবে উজ্জ্বল, শিশুর মুখে ফুটবে স্বাভাবিক হাসি। এই বিচ্ছেদ শুধু দৈহিক; তার রচনা ও আদর্শের মাঝে তিনি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন বাংলার সাহিত্যাকাশে, শিশুদের মনে।

আমরা অনেকেই সুকুমার বড়ুয়া ও সুকুমার রায়কে গুলিয়ে ফেলি। কিন্তু সুকুমার বড়ুয়াকে আলাদা করেই চেনা যায়, যেমন চেনা যায় সুকুমার রায়কে। সুকুমার রায় কলকাতাকেন্দ্রিক, তার ছড়া ও ননসেন্স ভার্সে আধুনিক শহুরে কাব্য চেতনার ছাপ স্পষ্ট। আর সুকুমার বড়ুয়া সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের মাটি ও লোক জীবনের কণ্ঠস্বর। তার ছড়ায় গ্রাম-বাংলার খেলার মাঠ, নদীর ধার, লোককথার গন্ধ এবং সহজ-সরল বন দর্শনের প্রতিচ্ছবি মূর্ত হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সুকুমার

তার মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, অসংখ্য শোকবার্তা, শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তার লেখা ছড়ার পোস্ট ভেসে উঠেছে। অনেকেই তার দুর্লভ সাক্ষাৎকার বা পাঠের ভিডিও শেয়ার করেছেন। কিন্তু এই ভিডিওগুলোর অনলাইন ভার্সনেও তাকে দেখা যাচ্ছে একান্তই সাধারণ, সাদাসিধা, মলিন পোশাকের একজন মানুষ হিসেবে, যিনি কোনো আলোকিত মঞ্চ নয়, তার নিজের গৃহকোণেই বসে কথা বলছেন।

বিষয়টা এরকম যে, এর আগে যেন তাকে আমরা চিনতামই না। তিনি নিজে নিভৃত সাধনা করেছেন, নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন, কোনো প্রচার বা প্রাপ্তির মোহ ছাড়াই। তিনি কোনো সাহিত্যিক গোষ্ঠী বা গদির অংশ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একলা এক চিরন্তন শিশুর সাথী। কিন্তু আমরা জাতি হিসেবে তাকে যেন আড়াল করে না রাখি।

তার এই আড়ালে থাকার স্বভাবই তার সৃষ্টিকে আরও খাঁটি ও মৌলিক করেছে, কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সৃষ্টিকে আলোয় আনা। তাকে চিনতে হবে শুধু একটি নাম বা পুরস্কারের তালিকা হিসেবে নয়, বরং এক সুবিশাল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বর্তমান রূপকার হিসেবে। প্রতিটি স্কুলে, গ্রন্থাগারে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার অনুরণন ছড়িয়ে দিতে হবে। তার অন্তর্ধান সেই আড়ালের অবসান ঘটাক এবং তার সৃষ্টির আলো যেন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

কৃতজ্ঞতা : রাশেদ রউফ

দন্ত্যস রওশন : শিশুসাহিত্যিক, অণুকাব্য লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক