ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশে ২০২০ সালে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৩০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের নিচে) নাগরিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন। যা মোট অ্যাসাইলাম আবেদনের ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে অভিভাবকবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন ১৩ হাজার ৫৫০ জন। যা ২০২০ সালের মোট আবেদনকারীর ৩ শতাংশ। এছাড়া ১৮ বছরের নিচে বাংলাদেশি শিশু-কিশোর রয়েছে ৯৩৫ জন।

শিশুদের অ্যাসাইলাম আবেদনের সবার শীর্ষে রয়েছে এশিয়া মহাদেশ। এ মহাদেশে সর্বমোট ৬৮ হাজার ২০ জনের মধ্যে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দুটি দেশ সিরিয়া এবং আফগানিস্তানের নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকা।

অ্যাঙ্গেলা মেরকেল সরকারের নমনীয় ভূমিকা এবং সুযোগ সুবিধার কারণে জার্মানিতে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ৩১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদন করেছেন। অপরদিকে স্লোভাকিয়ায় সর্বনিম্ন ১৫ জন আবেদন করেছে। এছাড়া ফ্রান্সে ১৯ হাজার ৫৫০ জন, ইতালিতে ২ হাজার ৬৫৫ জন, স্পেনে ১৫ হাজার ৪৮৫ জন, গ্রিসে ১০ হাজার ৬৬৫ জন এবং পর্তুগালে ১৩৫ জন আবেদন করেছেন।

অভিভাবকসহ যেসব শিশুরা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন তাদের বিষয়ে কোনো জটিলতা না থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিভাবকহীন শিশু-কিশোররা।  প্রায়ই তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিবাদের সম্মুখীনও হয়।

জার্মানিতেও প্রতিনিয়ত আশ্রয় আবেদনকারী শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে ভাবনার বিষয় হচ্ছে এই শিশু-কিশোররা মুসলিম বংশোদ্ভূত হওয়ায় জনগণের মনে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের অধিকার এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ইউরোপের নাগরিকরা এক ধাপ এগিয়ে।  তবে অভিভাবকহীন অ্যাসাইলাম আবেদনকারী শিশু-কিশোররা স্থানীয় জনগণের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা পরবর্তীতে ইউরোপে অ্যাসাইলাম আবেদনের পথ সংকুচিত করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এসকেডি