ছবি: সংগৃহীত

কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে শুরুর একাদশে জায়গা হারান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তাকে জায়গা দিয়েছিলেন বেঞ্চে। তবে পর্তুগাল দলে নতুন কোচের আগমনে পাল্টে গেল পরিস্থিতি। সান্তোসের স্থলাভিষিক্ত হওয়া রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে একাদশে ফেরালেন। পাশাপাশি তিনি তুলে ধরলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী ফরোয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা।

বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে গত বছর কাতারের মাটিতে খেলতে গিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু যে অভিজ্ঞতা তার হয়, সেটা তিনি হয়তো ভুলে যেতেই চাইবেন! ৩৮ বছর বয়সী তারকার পারফরম্যান্স ছিল গড়পড়তা মানের। যদিও ঘানার বিপক্ষে পর্তুগিজদের প্রথম ম্যাচে গোল করেছিলেন রোনালদো।

তবে গ্রুপ পর্বের পরের দুই ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে তিনি ব্যর্থ হন। এতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলেন সান্তোস। কোয়ার্টার ফাইনালেও তাকে থাকতে হয় বেঞ্চে। মরক্কোর বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলেও দলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া আটকাতে পারেননি তিনি।

জাতীয় দলের জার্সিতে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। তবে মার্তিনেজ সব শঙ্কা উড়িয়ে তাকে কেবল স্কোয়াডেই রাখেননি, খেলিয়েছেন শুরু থেকেই। কোচের আস্থার প্রতিদানও দারুণভাবে দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে লিসবনের এস্তাদিও জোসে আলভালাদেতে লিখটেনস্টাইনকে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক পর্তুগাল। ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের 'জে' গ্রুপের ম্যাচে তারা ৪-০ গোলে জিতে করেছে শুভ সূচনা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ (১৯৭) খেলার রেকর্ডের মালিক হওয়ার উপলক্ষ রাঙান রোনালদো। বিরতির পর তার পা থেকে আসে জোড়া গোল।

জয় দিয়ে নতুন ঠিকানায় দায়িত্ব পালন শুরু করার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকে মার্তিনেজ বলেছেন তার আগামীর পরিকল্পনায় রোনালদোর গুরুত্বের কথা, 'এটা একটা নতুন চক্র। যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো একজন খেলোয়াড় যেন নিবেদন দেখায় এবং এটা সম্পর্কে অবগত থাকে যে আমরা তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারি। ক্রিস্তিয়ানো সেটা দেখিয়েছে।'

রেকর্ড গড়ার পর উচ্ছ্বসিত আল নাসর ফরোয়ার্ড রোনালদো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, 'আমাদের জাতীয় দলের হয়ে এই স্টেডিয়ামে- যা কিনা আমার কাছে স্পেশাল- খেলতে পারা ও গোল করার অনুভূতি খুবই দারুণ। সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার হতে পেরে আমি গর্বিত।'

এইচজেএস