‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে, দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?’–কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতার এই পংক্তিগুলোর সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই পরিচিত নন ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। তবে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা তারকা এই ফুটবলারও একদিক থেকে একমত অচেনা এই বাঙালি কবির সঙ্গে। দুঃখ বিনা কখনো সুখ আসে না।

ইনজুরি আর নেইমার যেন সমার্থক। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় ইনজুরিতে কাটানোর কারণে ব্রাজিলের হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট মিস করেছেন সেলেসাও তারকা। অথচ ফুটবলসম্রাট পেলের পর ব্রাজিলের বড় তারকা হতে পারতেন তিনি। এ নিয়ে অবশ্য আক্ষেপের অন্ত নেই ভক্ত-সমর্থকদেরও।

২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ এবং ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক এখন পর্যন্ত নেইমারের ক্যারিয়ারে বড় প্রাপ্তি হয়ে আছে। ২০১৯ সালে ব্রাজিল কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতলেও ইনজুরির কারণে সেই স্কোয়াডে ছিলেন না নেইমার। 

এসিএল ইনজুরির আসন্ন কোপা আমেরিকায় তার খেলা অনেকটাই অনিশ্চিত। তবে সেলেসাও সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হচ্ছে, ইতোমধ্যে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। যোগ দিয়েছেন সৌদি ক্লাব আল-হিলালের ফিটনেস ক্যাম্পেও। এর মধ্যে অবসরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে টুকটাক ছবি শেয়ার করেন। কখনো কখনো ভারি ভারি সব ক্যাপশনও জুড়ে দেন। এই যেমন তিনটি ছবি পোস্ট করে আজ লিখলেন, ‘নো পেইন নো গেইন’। এর আগেও এমন ক্যাপশন অর্থবহ দিতে দেখা গেছে, ‘কষ্ট ছাড়া আরোগ্য হয় না, পড়ে না গিয়ে উঠে দাঁড়ানোর মধ্যে বীরত্ব নেই। আর কষ্ট ছাড়া জয় আসে না। আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’ 

অবশ্য ইনজুরির পাশাপাশি সমালোচকদের তিরেও কম বিদ্ধ হতে হয়নি নেইমারকে। মাঠের বাইরে থাকা ব্রাজিল তারকা কদিন আগেই ভিন্ন কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। সাবেক ফুটবলার রোমারিওর জন্মদিনে উপস্থিত এই তারকার কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে নেইমারকে মোটা বলে হাস্যরসে মেতে ওঠেন নেটিজেনরা। সামাজিক মাধ্যমে অবশ্য এর জবাবও দেন তিনি।

নেইমার একটি ভিডিও শেয়ার করেতাকে নিয়ে কৌতুকে মেতে ওঠা ব্যক্তিদের ‘হেটার্স’ উল্লেখ করে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান তিনি। যদিও নেইমার স্বীকার করেছেন যে তার ওজন বেড়ে গেছে। তবে তাকে মোটা (ফ্যাট) বলার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে তিনি কথিত ‘হেটার্সদের’ মধ্যমাও দেখান।

এফআই